Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

আমার মা একজন ফাইটার

ছোটবেলা থেকেই নিয়মানুবর্তিতা, মূল্যবোধ শিখিয়েছেন মা। ভালো মানুষ হতে শিখিয়েছেন। ছোট থেকেই আমরা দু’ভাই নিয়মের মধ্যে বড় হয়েছি।

আমার মা একজন ফাইটার
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছোটবেলা থেকেই নিয়মানুবর্তিতা, মূল্যবোধ শিখিয়েছেন মা। ভালো মানুষ হতে শিখিয়েছেন। ছোট থেকেই আমরা দু’ভাই নিয়মের মধ্যে বড় হয়েছি। ভালো মানুষ হতে পারলে তবেই ভালো অভিনেতা হওয়া যায়— মায়ের এই শিক্ষা আমি এবং ভাই আজও মেনে চলি। জীবনে যেটুকু সাফল্য পেয়েছি তার অনেকটা অবদানই আমার মা মিঠু চক্রবর্তীর।

Advertisement

মা প্রবাসী বাঙালি। মায়ের বাংলায় কথা বলার চর্চা শুধু বাড়িতেই ছিল। আমার মা কিন্তু তাঁর বিয়ের পরে বাংলা ভাষায় লিখতে সড়গড় হয়েছেন। তারপরও বাংলা ভাষার উপর মায়ের অসাধারণ দখল। মা অনায়াসে বাংলায় স্ক্রিপ্ট পড়েছেন, বাংলায় কবিতা লেখেন। আমার মনে হয় এই ডেডিকেশন আমার মায়ের দ্বারাই সম্ভব। মা ছোট থেকে আমাদের দুই ভাইকে বাংলা এবং ইংরেজি দু’টি ভাষাতেই দক্ষ তৈরি করতে চেয়েছেন। ইংরেজি উচ্চারণের খুঁটিনাটি বিষয়েও মায়ের তীক্ষ্ণ নজর ছিল। তাই আজ যেটুকু ভাষার উপর দখল রয়েছে সেই কৃতিত্বও আমার মায়ের। জীবনে কোনো পর্যায়ে এসে যাতে অসুবিধায় না পড়তে হয় সেই বীজ ছোটবেলাতেই বপন করে দিয়েছিলেন মা। মায়ের শাসন প্রত্যেক সন্তানের কাছেই হয়তো একটি বিশেষ জায়গা। ছোটবেলায় মায়ের শাসন-শৃঙ্খলার কারণেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনটা সহজ হয়েছে।

ছোটবেলায় মাকে ভয় পেতাম। মায়ের থেকেও বাবাকে বেশি ভয় পেতাম। বাবা

কোনো দিন গায়ে হাত তোলেননি। কিন্তু, মায়ের শাসনের লিস্টে মারধর ছিল মাস্ট। মা এবং সন্তানের সম্পর্কের বন্ডিংটা প্রত্যেকটা বয়সে ভিন্ন স্তরের মধ্যে দিয়ে যায়। প্রথম দিকে মাকে ভয় পেতাম। তার কিছুটা সময় কাটার পর মায়ের সঙ্গে তুমুল মতবিরোধ তৈরি হল। খুঁটিনাটি বিষয়ে ঝগড়া লেগে যেত। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যেত যে, আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি! বয়সে আরও কিছুটা পরিণত হওয়ার পর বুঝতে পারলাম আমার জীবনে মায়ের অবস্থান। আমাদের বড় করার জন্য মা কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মায়ের বিভিন্ন ত্যাগ, অনুশাসন, স্নেহের কারণেই আমরা একটা সুন্দর জীবন পেয়েছি। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মাকে নতুন ভাবে যেন আবিষ্কার করেছি। ছোট বয়সে সব কথা মাকে বলতে পারতাম না। ধীরে ধীরে মা আমার বন্ধু হয়ে উঠল। একটা বয়সের পর মায়ের সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করতে আর ভয় করেনি।

আজ যখন মায়ের সঙ্গে আমার ছেলে ধীরের সুন্দর মুহূর্তগুলো দেখি তখন আমার মনে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো ভীষণভাবে ভিড় করে। আমার মনে হয় মায়েরও বেশি করে আমার ছোটবেলাটা মনে পড়ে। ওর মধ্যে দিয়ে হয়তো মা আমার ছোটবেলাটা খুঁজে পায়। মাকে ধীরের সঙ্গে খেলতে দেখা বা বিভিন্ন মজার মুহূর্তে দেখতে পাওয়া আমার পরম ভাগ্য। কিন্তু, একটা জিনিস মনে হয় যে ধীরের ব্যাপারে আমার মা অনেক বেশি সহজ। আমার ক্ষেত্রে কিন্তু মা অনেক কঠোর ছিলেন।

আমার কাছে মা একজন ফাইটার। কঠিন অসুখের সঙ্গে যেভাবে মা লড়াই করেছেন, তা সত্যিই কুর্নিশযোগ্য। এরকম কঠিন অসুখের মধ্যে দিয়ে যিনি যান, তাঁকেই সবথেকে বেশি লড়াই করতে হয়। সেই জায়গায় আমার মা এত সুন্দর ভাবে সবটা সামলেছেন, সেজন্য আমাদের কাছেও বিষয়টা অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ