ইসলামাবাদ: প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে এবার সেনা বিদ্রোহের শঙ্কা! কার্যত নজিরবিহীনভাবে সেনাপ্রধান অসীম মুনিরকে পদ ছাড়তে বললেন জুনিয়র অফিসার ও সেনার অন্যান্য সদস্যরা। জেনারেল মুনিরকে লেখা এক খোলা চিঠিতে বাহিনীর অফিসাররা তাঁকে পদ ছাড়তে বলেছেন। যদি তিনি পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তাহলে ফল ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। মুনির সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অধস্তন অফিসাররা। তাঁদের মধ্যে কর্নেল, মেজর ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার অফিসার রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মুনিরের নেতৃত্বকে ১৯৭১ সালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তখন নেতৃত্বের ভুলে পাকিস্তান সেনাকে ভারতের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের। জেনারেল মুনিরের সময়ও পাকিস্তান সেই পথে হাঁটছে। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘পদত্যাগ করুন নইলে ফল ভোগ করুন। এখানে কোনও আপসের স্থান নেই।’ পাকিস্তানে সরকার বিরোধীদের উপর নৃশংস দমন-পীড়ন চলছে। মানুষকে রাস্তায় পিটিয়ে মারা হচ্ছে। সাংবাদিকদের গুলি করে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীদের গায়েব করার মতো ঘটনা ঘটছে। তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে দেশের অর্থনীতি। এসবের পরেও মুনির নিজের মেয়াদ ২০২৭ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন। নিজেদের দেশেই সেনাবাহিনীকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়ার জন্য মুনিরকে দায়ী করেছেন জুনিয়র অফিসাররা।
পাক সেনাবাহিনীতে এই ডামাডোলের মধ্যে গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বালুচিস্তানের মহিলা আত্মঘাতী বাহিনী। গত ১১ মার্চ বালুচিস্তানের জাফর এক্সপ্রেস আটকে রেখে অন্তত ৪০০ জন যাত্রীকে অপহরণ করেছিল বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন আত্মঘাতী মহিলা যোদ্ধা। ইতিমধ্যে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাঁর নাম বানুক মাহিকান বালুচ। বিজ্ঞানে স্নাতক ওই তরুণী বিএলএ-র মজিদ ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। তবে এই প্রথম নয়, ২০২২ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরণে জড়িত ছিলেন বিএলএর আত্মঘাতী বাহিনীর এক মহিলা সদস্য। বালুচ বিদ্রোহীদের কীভাবে দমন করা হবে, এনিয়ে উদ্বেগ কাটছে না পাক সেনার।