নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস বাদে কোচবিহার পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে ২০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৯ জন উপস্থিত হলেন। কিন্তু সেই বোর্ড মিটিং শুরুর আগেই পুরসভার সামনে একাংশ কাউন্সিলারকে অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হল। অস্থায়ী কর্মীরা তাঁদের ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা করার দাবি জানান। পুরসভার পক্ষ থেকে এই বেতন বৃদ্ধির দাবিকে সঙ্গত বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরসভা একথাও স্বীকার করে নিয়েছে, ২০১৭ সালের নির্দেশিকা অনুসারে রাজ্যের সমস্ত পুরসভাই এই খাতে টাকা পায়। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র কোচবিহার ও দার্জিলিং পুরসভা এই টাকা পাচ্ছে না। অস্থায়ী কর্মীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত পাঠানো হবে। এদিকে, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার পুরসভার মিউটেশন ফি বৃদ্ধি সহ একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বিষয় নিয়েও এদিনের বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে যে নির্দেশিকার উপর পুরসভা ওই প্রস্তাব করেছিল তা সুডার কাছে তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আর্থিক কিছু বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হবে। তা নিয়ে এদিন সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবি করেছেন সেটা ন্যায্য দাবি। ২০১৭ সালের নির্দেশিকা অনুসারে ১২৬টি পুরসভা রাজ্য সরকারের থেকে টাকা পাচ্ছে। কোচবিহার ও দার্জিলিং পুরসভায় সেটা বাদ রয়েছে। তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আশা করছি, অনুমোদন পেলে এঁদের বেতন কম পক্ষে ১০ হাজার টাকা হবে। একজন কাউন্সিলার অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি।
কোচবিহার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সভায় মিউটেশন চার্জ, কনজারভেন্সি কর নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ২০২৩ সালে সুডার একটি নির্দেশিকা ছিল। আমরা সমস্ত কাউন্সিলার মিলে সুডার কাছে সেটা তুলে নেওয়ার আবেদন করব। মুখ্যমন্ত্রী বলার পর আশা করি সুডা আর আপত্তি করবে না। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ ও সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। স্টাফ লিস্ট সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এটা হলে কর্মীদের বেতন বাড়বে।
কোচবিহার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, ২০২৩ সালে সুডা নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আমরা মানিনি। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তাই সেটা বাড়ার কোনও প্রশ্ন নেই। নিজস্ব চিত্র।