Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোবিন্দপুরের পুজোয় শামিল মুসলিমরাও

তেহট্টের গোবিন্দপুরের নাথপাড়া বারোয়ারির দুর্গা পুজো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলন ক্ষেত্র। এখানে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায় মিলে পুজোয় অংশ নেয়।

গোবিন্দপুরের পুজোয় শামিল মুসলিমরাও
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্টের গোবিন্দপুরের নাথপাড়া বারোয়ারির দুর্গা পুজো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলন ক্ষেত্র। এখানে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায় মিলে পুজোয় অংশ নেয়। মাত্র ৩০টি হিন্দু পরিবারের বাস নাথপাড়ায়। বাকি সব মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস। কিন্তু তাতে কী! দুই সম্প্রদায়ের মানুষই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজোয় অংশ নেন। মুসলিমদের একাংশ আনন্দের সঙ্গে পুজোর প্রসাদও নেন।  

Advertisement

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় শুধু পুজো নয়, বিখ্যাত চাচা ফকিরের মেলাতেও এমন সম্প্রীতির ছবি দেখা যায়। গোবিন্দপুরের নাথপাড়া এলাকায় মাত্র কয়েক ঘর হিন্দুর বাস। কিন্তু তাঁরা যাতে ঠিকভাবে পুজো করতে পারেন সেইজন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এলাকায় বেশির ভাগ মানুষ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির। তাঁদের পক্ষে এত বড় পুজো করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁরা যাতে পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে এগিয়ে আসেন। এবছর প্রথমবার এই পুজো রাজ্য সরকারের অনুদান পেয়েছে। ফলে এবার গোবিন্দপুর নাথপাড়ার মানুষ আরও ভালো করে পুজো করতে পারবেন। এই পুজো কমিটির সভাপতি অলোক দেবনাথ ও সম্পাদক অক্ষয় দেবনাথরা বলছেন, আমরা এখানে যাঁরা বাস করি, সবার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। এখানে পাঁচ হাজার ঘর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। ওঁরা কোনওদিন আমাদের ধর্ম আচরণে বাধা হয়ে দাঁড়াননি। বরং প্রতিবছর পুজোর সময় আমাদের সবরকম সহযোগিতা করে থাকেন। এই পুজো মণ্ডপ যে পাকা হয়েছে, তাতেও ওই মানুষগুলির অবদান আছে। 
এলাকার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল বলেন, এখানে কোনও বিভেদ নেই। দুই সম্প্রদায় মিলেমিশে থাকে। দুই ধর্মের অনুষ্ঠানেই পরস্পর শামিল হই। আমাদের সবার প্রচেষ্টায় এই পুজো রাজ্য সরকারের অনুদান পেয়েছে। তাই এবার সরকারি অনুদানের টাকায় পুজো হবে। আমরাও পুজোর চারদিন আনন্দে শামিল হব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ