সংবাদদাতা, কাঁথি: পর্যটনকেন্দ্র মন্দারমণির সৈকতে ভরসন্ধ্যায় এক মিউজিক ভিডিও পরিচালকের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সিনেমার কায়দায় অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। যদিও অপহরণের কয়েকঘণ্টা পরই পুলিস শ্রীকান্ত জাড় ওরফে প্রিন্স নামে ওই পরিচালককে উদ্ধার করেছে। অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কলকাতার বাসিন্দা এক প্রযোজকের সঙ্গে মিউজিক ভিডিও তৈরি করা নিয়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলা ছিল প্রিন্সের। প্রযোজকের পরিকল্পনা মতো ওই পরিচালককে অপহরণ করা হয়। কাঁথির অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) শুভেন্দ্র কুমার বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ২১ জুলাই টালিগঞ্জ থেকে মিউজিক অ্যালবাম শ্যুটের জন্য ১৮ জনের টিম মন্দারমণি আসে। বৃহস্পতিবারই রাতে তাঁদের ফেরার কথা ছিল। ওইদিন বিকেলে মন্দারমণি সংলগ্ন দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুরের লাল কাঁকড়া বিচে ইউনিটের শ্যুটিং চলছিল। শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর পরিচালক সহ সকলে তখন দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার আগে সেখানেই প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে হাজির হয় চারজন। তারা কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করার পর ওই টিমের মধ্য থেকে পরিচালক প্রিন্সকে বন্দুক দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় হতচকিত হয়ে যান শ্যুটিং ইউনিটের সকলে। ঘটনার পরই তাঁরা মন্দারমণি কোস্টাল থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়েই পুলিস তদন্তে নামে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদার শঙ্কর মণ্ডল বলেন, সন্ধ্যায় কয়েকজনে সৈকতের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। হঠাৎ একজনকে টানতে টানতে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। দুষ্কৃতীদের হাতে বন্দুক ছিল। তাই ভয়ে কেউ কাছে ঘেঁষতেও পারেনি। লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই গাড়িটি দ্রুতগতিতে কাঁথির দিকে বেরিয়ে যায়। এদিকে, অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিস অপহৃত পরিচালকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। পরে খড়্গপুরের দিকে গিয়েছে জানতে পেরে অপহরণের বিষয়টি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিসকে জানায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস। জেলা পুলিসের নির্দেশে খড়্গপুর সহ আশপাশের থানা এলাকায় নাকা পয়েন্টগুলিকে অ্যালার্ট করে দেওয়া হয়। নজরদারি এড়িয়ে তারা চৌরঙ্গি হয়ে খড়্গপুর শহরে ঢুকে পড়ে। পুলিস চারদিক দিয়ে এলাকা ঘিরে নিয়েছে বুঝতে পেরে জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তার ধারে গাড়ি ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। ভোররাতের দিকে স্থানীয় পুলিস গাড়ি সহ ওই পরিচালককে উদ্ধার করে। তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস জানতে পারে, পরিচালককে নিয়ে দুর্গাপুরের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দুষ্কৃতীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। ওই পরিচালক বলেন, একজন আমাকে এসে জিজ্ঞাসা করে এখানে কি শ্যুটিং চলছে? কথা চলার মাঝে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়ির মধ্যে ঢোকায়।



