Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ: জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে পোশাকের হাট, ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী বিক্রেতারা

মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন জায়গায় গজিয়ে উঠছে একের পর এক পোশাকের হাট। জেলার বাইরে থেকে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা এই সমস্ত হাটে এসে কাপড় জামা বিক্রি করছে।

মুর্শিদাবাদ: জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে পোশাকের হাট, ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী বিক্রেতারা
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন জায়গায় গজিয়ে উঠছে একের পর এক পোশাকের হাট। জেলার বাইরে থেকে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা এই সমস্ত হাটে এসে কাপড় জামা বিক্রি করছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে জেলার বিভিন্ন বাজারের স্থায়ী দোকানগুলি। জেলায় বর্তমানে ৩৩টি হাট বসছে বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন মহকুমায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সেগুলি বসছে। অবিলম্বে এই ধরনের কাপড় জামার হাটের লাগাম টানতে না পারলে আগামীদিনে বড় সমস্যার সম্মুখীন হবেন স্থায়ী ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বহরমপুর সদর শহরের পাইকারি বাজার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনের নজরদারির জন্য আবেদন করছেন তাঁরা। 

Advertisement

যেমন বেলডাঙা এবং বহরমপুরের ভাকুরিতে বিশাল হাট বসে। এছাড়াও ভগবানগোলা, কুর্মিটোলা, ডাকবাংলো এবং জিয়াগঞ্জে বড় কাপড়ের হাট বসে। এই কাপড়ের হাটগুলিতে মুর্শিদাবাদ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নদীয়া ও দুই বর্ধমান থেকেও প্রচুর ব্যবসায়ী কাপড় জামা বিক্রি করতে আসেন। শাড়ি, কুর্তি, লেগিংস, ফ্রক, নাইটি, চুরিদার, ছেলেদের জামা, প্যান্ট, পাজামা, বারমুডা, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, গামছা, লুঙ্গি সমস্ত কিছুই পাওয়া যাচ্ছে এই সমস্ত হাটে। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা কম পয়সায় মাল এনে এইসব হাটে পাইকারি দরে বিক্রি করছে। এমনকী হাওড়া ও কলকাতার বড়বাজার থেকেও জিনিসপত্র কিনে সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে সেখানে। যার ফলে স্থায়ী বস্ত্র বিপণিগুলি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ব্যবসায়ীমহল। কারণ অধিকাংশ হাটগুলির কোনও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটেড মার্কেটিং কমিটির কোনও পারমিশন নেই। এরা বৈধভাবে কোনও কাপড় বিক্রি করতে পারে না বলেই অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাই যাতে প্রশাসন এই সমস্ত হাটগুলির উপরে নিয়ন্ত্রণ শুরু করে, সেই দাবি উঠছে। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও সমিতির তরফ থেকে একাধিক ডেপুটেশন জমা করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ অধিকারিকদের কাছে। 
বহরমপুর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, বেআইনি হাটের ফলে আমাদের সমস্যা বাড়ছে। জেলার যেখানে সেখানে হাট গজিয়ে উঠছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় এখন ৩৩টি অবৈধ হাট আছে। এই হাটগুলির উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে আমরা আবেদন করেছি, যাতে অবিলম্বে অবৈধ হাটগুলির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই হাটের ফলে বিভিন্ন বাজারের পোশাক ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামনে পুজো আসছে। এই ধরনের হাটগুলিতে এখন থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা হাটগুলি নিয়ে স্থায়ী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পেয়েছি। সেটা খতিয়ে দেখা হবে। 
বহরমপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের মতো বহু প্রসিদ্ধ বস্ত্রবিপণি রয়েছে খাগড়া এবং নতুন বাজার এলাকায়। দীর্ঘ কয়েক দশকের ব্যবসা সকলের। আমাদের ব্যবসায় এই অবৈধ হাটগুলি ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই হাটগুলির কাপড় বিক্রি করার করার সরকারি অনুমোদন নেই। জেলা প্রশাসনের অবিলম্বে এই হাটগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। বহরমপুর শহরের অনেক মানুষই এখন দোকান ছেড়ে এই সমস্ত হাট থেকে জিনিসপত্র কিনছে। এই সমস্ত হাটের জিনিসের গুণমান অত্যন্ত খারাপ। অনেক ক্রেতারা দু’-একবার জিনিস কেনার পর তা বুঝতে পেরে ফের আমাদের মতো দোকানেই ফিরে আসছেন। 
বহরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থের বাসিন্দা মালা বাগচী বলেন, শহরের পাশে ভাকুড়িতে একটি বড় পোশাকের হাট বসে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ঘরে পরার বেশকিছু কাপড়জামা এবং জিনিসপত্র কিনেছি। কিন্তু দুই-তিনবার কাচার পরেই সেগুলির রং উঠে গিয়েছে। কাপড়ের গুণমান অনেক খারাপ। তাই আর হাট থেকে পোশাক কেনার কখনও চিন্তা করি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ