নিজস্ব প্রতিনিধি,বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় অতিবৃষ্টির ফলে হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে। জানুয়ারি থেকে আগস্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির স্বাভাবিক পরিমাণ হওয়া উচিত ৭৯৬ মিলিমিটার। কিন্তু এবছর ৮০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুর্শিদাবাদ জেলার সর্বত্র জল জমেছে।
কান্দি মহকুমায় বাঁধ ভেঙে বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে ঠিকই তবে জেলার অন্যত্র বন্যা পরিস্থিতি নেই। খাল, বিল, পুকুর এবং নালা বৃষ্টির জলে টইটম্বুর। ফলে পাট জাক দিতে সুবিধা হয়েছে চাষিদের। পাশাপাশি এবছর মরশুমের প্রথম দিকে পাটের দামও ভালো রয়েছে। দ্রুত পাটপচিয়ে বাজার জাত করলে ভালো মুনাফা পাবেন চাষিরা। অন্যান্য বছর জল কিনে ডোবায় ফেলে সেই জলে পাট জাক দিতে হয়েছে চাষিদের। পরপর তিন বছর কম বৃষ্টির জেরে জেলায় পাট চাষিদের অবস্থা বেশ শোচনীয় হয়ে পড়ে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদল হওয়ায় আশার আলো দেখছেন তাঁরা।
জেলার এক কৃষি আধিকারিক বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার পাট চাষের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ জমির ফসল কেটে ফেলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা দ্রুত পাট কাটার কাজ করছে। অনেক পাটের জমি জলমগ্ন হওয়ায় ফসল তুলতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে যে হারে বৃষ্টি হয়েছে তাতে পাট পচানোর জলের কোনও সমস্যা নেই কোথাও। আগস্টের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে জেলায়।
হরিহরপাড়ার পাটচাষি ফারুক শেখ বলেন, টানা তিন বছর জল কিনে ডোবাতে ফেলে পাট জাক দিয়েছি। এবার অন্তত সেই পরিস্থিতি নেই। খরচ করে পাট চাষ করার পরে আবার জল কিনে পাট পচাতে হলে লাভচোখে দেখা যায় না। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে তাই জলের কোনও সমস্যা নেই। নওদার পাটচাষি রাজীব শেখ বলেন, এ বছর মরশুমের শুরুতে একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। তবে পাট তোলার সময় যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে আমরা সকলেই খুশি। প্রথমদিকে জল সেচ দিয়ে পাট গাছ বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছিল ঠিকই, তবে পাট পচানোর জন্য এবার জল কিনতে হয়নি সেটাই আমাদের সৌভাগ্য। বহরমপুরের পাটচাষি লিয়াকত শেখ বলেন, মরশুমের শুরুতে একেবারে অনুকূল আবহাওয়া ছিল না। তবে যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে পাট পচানোর জল পাব ঠিকই, তবে এরপর সব্জি চাষ করতে সমস্যা হবে।
অধিকাংশ চাষের জমি জলে ডুবে রয়েছে। জল না শুকোলে নতুন চাষ শুরু হবে না।