নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা প্রকল্পে নাম নথিভুক্তি করণে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ। জেলায় মোট ১৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩৩৬ শ্রমিকের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন তিন লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৩৮ জন। মোট আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ২৮০ কোটি টাকা। মঙ্গলবার বহরমপুর শ্রমিক ভবন থেকে হাইব্রিড মোডে জেলাজুড়ে ৩১৭৩ জন শ্রমজীবী ও তাঁদের পরিবারের হাতে মোট ৬ কোটি ৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার পরিষেবা তুলে দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলশাসক (উন্নয়ন) চিরন্তন প্রামাণিক, জয়েন্ট লেবার কমিশনার বিতান দে, নির্মাণ কর্মী পর্ষদের সদস্য পার্থপ্রতিম সরকার প্রমুখ।
২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা নামের একটি প্রকল্প চালু করে রাজ্য সরকার। নিবন্ধীকৃত প্রতিটি অসংগঠিত শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৫৫ টাকা করে জমা করে রাজ্য সরকার। শ্রমিকের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলে তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা টাকা সাধারণ ভবিষ্যনিধি তহবিলের (জিপিএফ) সুদ সহ ফেরত পান। ৬০ বছরের আগেই শ্রমিক দুর্ঘটনাজনিত কারণে মারা গেলে ২ লক্ষ টাকা এবং স্বাভাবিক কারণে মারা গেলে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য মেলে। এছাড়া ওই শ্রমিক দুর্ঘটনাজনিত কারণে শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য করে সরকার। এই যোজনার আওতায় থাকা নির্মাণ শ্রমিক ও পরিবহণ শ্রমিকরা কমপক্ষে পাঁচবছর নিবন্ধীকৃত থাকলে ৬০ বছর পরে যথাক্রমে মাসিক ১০০০ টাকা ও ১৫০০ টাকা করে পেনশন পান। পাঁচ বছরের বেশি সময় নিবন্ধীকৃত থাকলে প্রত্যেক বছরের জন্য ১০ টাকা হারে পেনশন বাড়তে থাকে।
চিরন্তনবাবু বলেন, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুগান্তকারী একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের জেলায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে সবথেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে। সার্বিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আমরা এই প্রকল্পে রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছি। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষদের অবসর জীবনে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া।
পার্থপ্রতিমবাবু বলেন, বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় ৩২০০ শ্রমিকের হাতে সুযোগ-সুবিধা তুলে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় শ্রমিক পরিবার সবথেকে বেশি। মহকুমার প্রতিটি ব্লকে শ্রমদপ্তরের সমস্ত আধিকারিক এবং কর্মীরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করছেন, তাই রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি সংখ্যক শ্রমিকের নাম নথিভুক্ত হয়েছে এ জেলায়। আমাদের জেলায় ১৯ লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। যার মধ্যে প্রায় চার লক্ষ মানুষকে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এদিন প্রায় ৩২০০ পরিবারের হাতে ৬ কোটি টাকার বেশি সুবিধা তুলে দেওয়া হল। আজকে যাঁরা সুযোগ-সুবিধা পেলেন, তাঁরা গ্রামে ফিরে যাবেন এবং অন্যান্যদের বলবেন, যে সরকার কীভাবে মানুষের পাশে আছে। নিজস্ব চিত্র