Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ: জেলায় ১ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাক

মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫২হাজার ভোটারের শুনানি শেষ হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার ১লক্ষ ২১হাজার ৫৯৬জন ভোটার শুনানিতে অংশ নেবেন।

মুর্শিদাবাদ: জেলায় ১ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাক
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫২হাজার ভোটারের শুনানি শেষ হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার ১লক্ষ ২১হাজার ৫৯৬জন ভোটার শুনানিতে অংশ নেবেন। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই বেশিরভাগ শুনানি শেষ হয়ে যাবে। বেশ কিছু ব্লকে প্রবীণ ভোটাররা কনকনে ঠান্ডায় শুনানি কেন্দ্রে আসতে অসুবিধায় পড়ছিলেন। তাই এবার ৮৫-ঊর্ধ্ব প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে শুনানির কাজ সারতে শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। জেলার ২৬টি ব্লকে প্রবীণ ভোটারদের বাড়ি গিয়ে শুনানি করা হবে।

Advertisement

অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, জেলায় ৫২হাজার ভোটারের শুনানি শেষ হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে ৮৫বছর বা তার বেশি বয়সের ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫৭লক্ষ ৬৪হাজার ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে ২০লক্ষ ৩৫হাজার ভোটার নিজেরাই ম্যাপিং করেছেন। ৩৩লক্ষ ২৮হাজার ভোটারের পরিবারের সদস্যরা ম্যাপিং করিয়েছেন। বাকি ১লক্ষ ২১হাজার ৫৯৬জন ভোটারের ম্যাপিং হয়নি। তাঁদের তথ্যে, নথিতে ভুল আছে অথবা অন্য সমস্যা রয়েছে। এই সমস্ত ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে।
এসআইআরের শুনানি পর্বে প্রবীণ এবং অসুস্থ ভোটারদের আর শুনানি কেন্দ্রে আসতে হবে না। আবেদন করলে বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। কমিশনের এই নির্দেশিকার পর জেলায় শুনানিতে ডাক পাওয়া প্রবীণ ও অসুস্থরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এতদিন এধরনের ভোটারদের প্রচণ্ড ঠান্ডায় শুনানি কেন্দ্রে আসতে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল। বাড়িতে শুনানি নেওয়া হলে সেই সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে।
সাগরদিঘির বাসিন্দা নিত্যানন্দ হালদার বলেন, আমার বয়স ৮৭। শুনানির নোটিস পেয়েছি। শুনছি, বাড়িতে লোক পাঠাবে। বাড়িতেই যদি কাজ হয়ে যায়, তাহলে খুব ভালো হবে।
হরিহরপাড়া ব্লকের লুৎফর মণ্ডল বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী শনিবার অসুস্থ শরীর নিয়েই শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়। কমিশন বিষয়টি নিয়ে আগে ভাবেনি। শুরু থেকেই ৮৫-ঊর্ধ্বদের বাড়িতে শুনানির ব্যবস্থা করা হলে ভালো হত।
এক বিএলও চিরঞ্জীব চক্রবর্তী বলেন, আমার বুথের ৩০-৩৫জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তার মধ্যে দু’একজন অসুস্থ। তাঁদের বাড়িতে শুনানির জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে-সেটা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি।
কমিশন জানিয়েছে, ফরাক্কা বিধানসভায় ৫৬১২, সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় ২৪৯৭, সূতিতে ১৬০৬জনকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। জঙ্গিপুর বিধানসভায় ৪৬৩৫ ও রঘুনাথগঞ্জে ২০৮৫জনের শুনানি হবে। সাগরদিঘিতে ২৭৪০, লালগোলায় ২৮৭৮, ভগবানগোলায় ৭৮২৭ ও রানিনগর বিধানসভায় ২৫১৭জনকে শুনানিতে ডাকছে প্রশাসন। মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে ১৪৬৮৪জনের ম্যাপিং হয়নি। নবগ্রামে ৫৫৯৪, খড়গ্রামে ৫০৫০, বড়ঞায় ৩৮৭২জনকে ডাকা হচ্ছে। জেলার মধ্যে কান্দি বিধানসভায় ২২,৬৬৪জনের ম্যাপিং হয়নি। এটাই সবচেয়ে বেশি। ভরতপুরে ৬৭১৯, রেজিনগরে ১৭৮৩, বেলডাঙায় ৩৪৬৭ ও বহরমপুরে ১৩,২৪০জনের ম্যাপিং হয়নি। হরিহরপাড়া বিধানসভায় ১৬১০, নওদায় ২৪৩০, ডোমকলে ১১৯২ ও জলঙ্গি বিধানসভায় ৬৮৯৪জনের ম্যাপিং হয়নি। তাঁরা শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ