ভগবান্ ভালবাসার ধন। তাঁহাকে শুদ্ধ ভালবাসা দ্বারা পাওয়া যায়—এই মতবাদকেই সাধারণত মরমিয়াবাদ বলে। এই বাদ পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মেই দৃষ্ট হয়। ইহাতেই বুঝা যায় ইহা মানবীয়। খ্রীষ্টানধর্মে এই বাদের নাম মিষ্টিসিজম্। ইসলামে এই মতের নাম সুফীমত। এখানে সুফীবাদের সঙ্গে বৈষ্ণবধর্মের কিঞ্চিৎ তুলনামূলক আলোচনা করিতে চেষ্টা করিব। সুফীমত ইসলামের অন্তরের সংবাদ। অন্তরের সংবাদ অনুধাবন করিতে বাহিরেরও কিছু জানা দরকার। হিন্দুধর্মের ভিত্তি যেমন শ্রুতি ও গীতা, ইসলামের ভিত্তি সেইরূপ কোরান ও হাদিস। দার্শনিকগণ চরম সত্য লাভের জন্য যে অনুসন্ধান করিয়াছেন তাহার মূল প্রেরণা নিহিত রহিয়াছে কোরানে ও হাদিসে। কোরান ঈশ্বরের বাণী। হাদিস ঈশ্বর-প্রেরিত পুরুষ হজরতের বাণী। ‘ওহি’ আর ‘এলহাম’ প্রত্যাদেশ ও অনুভূতি। কোরানে ‘ওহি’ রসুলের মাধ্যমে প্রকাশিত প্রত্যাদেশ, আর ‘এলহাম’ ধ্যানীর ধ্যানে প্রকটিত অপরোক্ষানুভূতি। এই দুইই অতীন্দ্রিয়। সুতরাং ইসলামের ভিত্তি অপ্রাকৃত সত্য (super rational intuition)। হিন্দুধর্মে যেমন একই শ্রুতির বিভিন্ন ব্যাখ্যা অবলম্বনে দ্বৈত অদ্বৈত দ্বৈতাদ্বৈত প্রভৃতি বহু মতের প্রকাশ, অনেকটা সেই মতই কোরান হাদিসের যথার্থ ব্যাখ্যা অনুসন্ধানের ফলে মুসলিম চিন্তাবিদ্গণ মুরজিয়া, জাবারিয়া, কাফেরিয়া, মুতাজিলা ও আশারিয়া এই পাঁচ সম্প্রদায়ের বিভক্ত। ইঁহাদের মধ্যে নানা বিষয় লইয়া মতভেদ আছে। তবে মূলকথা কোরান ও হাদিস সত্যের উৎস—এই বিষয়ে মতভেদ নাই। ইসলামের মূল বাণী ‘তওহীদ’। তওহীদ অর্থ খোদার একত্ব। যে এই খোদা বিশ্বাস করে না সে মুসলমান নয়। ইসলামে পুরোহিত নাই। অর্থাৎ ভগবান্ ও মানুষের মধ্যে দ্বিতীয় কোন মধ্যস্থ নাই। ইসলাম মতে প্রত্যেক মানুষ সমান, জাতি-বর্ণ ভেদ নাই। এই সাম্যবাদ ইসলামের মধ্যে। ইসলামের বাইরে যে সে কাফের। পাঁচটি স্তরের উপর ইসলাম দণ্ডায়মান। কালেমা, নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজ।


