নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলের মহিশীলার আসারনে নৈশরক্ষী খুনের ঘটনার দু’দিন পরেও দুষ্কৃতীদের নাগাল পায়নি পুলিস। খুনি ধরা না পড়লেও পুলিসের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার সময় পুলিসের নজরে আসে, রাতে একজন পাশের আবাসন থেকে রড চুরি করছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সে আগেও নির্মাণ সামগ্রী চুরি করেছে। পুলিসের অনুমান, খুব সম্ভবত নিরঞ্জনবাবুদের আবাসনের রড চুরির চেষ্টা হয়। তখন নৈশপ্রহরী বাধা দেওয়ায় তাঁকে খুন করা হয়। প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে নির্মীয়মাণ আবাসন চত্বরে নিরঞ্জন পালের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, আমরা সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছি। এই মুহূর্তে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। সেগুলি নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
সোমবার আসানসোল দক্ষিণ থানার মহিশীলা পূর্বপাড়া শান্ত এলাকা বলে পরিচিত। সেখানেই সোমবার ভোরে উদ্ধার হয় রক্তাক্ত মৃতদেহ। মৃত ব্যক্তি মহিশীলা পালপাড়ার বাসিন্দা নিরঞ্জন পাল। মাস সাতেক তিনি পূর্বপাড়ায় একটি নির্মীয়মাণ আবাসনে নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন। রবিবারও তিনি যথারীতি ওই আবাসনে ডিউটি দিতে আসেন। সেখানেই মাথা থেঁতলানো অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, ভোরে জনবহুল এলাকায় মৃতদেহ উদ্ধার হল। অথচ প্রতিবেশীরা বলছেন, রাতে তাঁরা কোনও আওয়াজ পাননি। তাহলে কী করে এই ঘটনা ঘটল তা পুলিস খতিয়ে দেখে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করুক।পুলিস তদন্তে নেমে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, রবিবার রাতে এলাকার একটি আবাসন থেকে রড চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে একজন। পুলিস তাকে শনাক্ত করে। পুলিসের দাবি, যাকে সেখানে দেখা গিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নির্মীয়মাণ আবাসন থেকে সামগ্রী চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুলিসের একটি সূত্রের দাবি, প্রথমে পাশের আবাসনে চুরি হয়। তারপর নিরঞ্জনবাবু যে আবাসনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে হানা দেয় চোরেরা। সম্ভবত চুরিতে বাধা দেওয়ার জন্যই দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করে। ওই এলাকায় রড চুরির ঘটনায় পুলিস একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। তাকে জেরা করে এই ঘটনার সূত্র পেতে মরিয়া পুলিস। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একের পর এক খুনের ঘটনায় এখনও দুষ্কৃতীদের নাগাল পায়নি আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিস। সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরে এক সিআইএসএফ জওয়ান নিজের জমিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সেই ঘটনায় পুলিস দুষ্কৃতীদের ধরতে পারেনি। চিত্তরঞ্জন থানা এলাকায় কোয়ার্টারে রেলকর্মীর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের দুষ্কৃতীরা এখনও অধরা। সর্বশেষে চলতি মাসের ৪ তারিখ কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ি এলাকায় রাস্তার উপর এক যুবকের নলি কেটে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় পুলিস প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করলেও হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য পুলিসের কাছে আজও অজানা। পুলিসের দাবি, প্রেমিকা মুখে কুলুপ এঁটেছে।