সংবাদদাতা, বালুরঘাট: শুধুই খুন? নাকি, ধৃত মেসো তার ভাগ্নিকে ধর্ষণও করেছিল? সেই রহস্য কাটেনি কুমারগঞ্জের নাবালিকা হত্যাকাণ্ডে।
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: শুধুই খুন? নাকি, ধৃত মেসো তার ভাগ্নিকে ধর্ষণও করেছিল? সেই রহস্য কাটেনি কুমারগঞ্জের নাবালিকা হত্যাকাণ্ডে।
পুকুরের জলে দেহ পচে যাওয়ায় মঙ্গলবার বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা যায়নি। ফলে বুধবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজে নাবালিকার ময়নাতদন্ত হয়েছে। রিপোর্ট এলেই খুনের পাশাপাশি নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে পুলিস জানিয়েছে। এদিকে ধৃত মেসো নাবালিকাকে কেন হত্যা করল, তা নিয়ে ধন্দ বাড়ছে। যদিও নাবালিকার বাবার ‘পরকীয়ার’ প্রতিশোধ নিতেই সে এই খুন করেছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু, তার দাবি নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। পুলিসের তদন্তকারী অফিসাররা সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে আরও গভীর তদন্তে নেমেছেন। ঘটনাস্থল ও পুকুর আপাতত ঘিরে রেখেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার আসতে পারে ফরেন্সিক দল।
এবিষয়ে কুমারগঞ্জের আইসি রামপ্রসাদ চাকলাদার বলেন, মালদহে নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্ত হয়েছে। রিপোর্ট এলেই সবকিছু স্পষ্ট হবে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক টিম আসবে। তদন্ত চলছে।
নাবালিকার পরিবারের দাবি, ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে। মৃতার বাবা এদিন বলেন, ধৃত যে বয়ান দিয়েছে, তা একেবারেই মিথ্যে। শ্যালিকার সঙ্গে আমার কোনও খারাপ সম্পর্ক ছিল না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই সব বোঝা যাবে। নাবালিকার দাদু বলেন, আমার ছোট জামাই এই ধরনের কাজ করবে, তা কেউ ভাবতে পারিনি। ওইটুকু মেয়ে কী দোষ করেছিল জানি না। আমি চাই, খুনী জামাইয়ের ফাঁসি হোক।
পুলিস সূত্রে খবর, গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল কুমারগঞ্জের ১১ বছরের নাবালিকা। তিনদিন পর সোমবার সকালে বাড়ি থেকে তিন কিমি দূরে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিস তারই মেসোকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালত সাতদিনের পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিসের স্পেশাল টিম নাবালিকাকে নিয়ে যাওয়া হলুদ গেঞ্জি পরা ব্যক্তির সন্ধানে নামে। যে ব্যক্তির মোবাইল থেকে ওই নাবালিকা ফোন করেছিল, সেই নম্বরটিকে অভিযুক্ত ব্লক করে রেখেছিল। পরে পুলিস নাবালিকার বাড়িতে যেতেই হলুদ গেঞ্জি পরা ওই অভিযুক্তকে আটক করে। তার মোবাইল নিতেই দেখা যায়, যে নম্বর থেকে নাবালিকার ফোন এসেছিল, রিসিভ কললিস্ট থেকে তা ডিলিট করা এবং ব্লক করা হয়েছে। এরপরই পুলিস জিজ্ঞাসাবাদ করতেই মেসো খুনের কথা স্বীকার করে। ধৃত জেরায় জানিয়েছে, ভাগ্নিকে টোটো করে প্রথমে মোহনা বাজারে নিয়ে গিয়ে চপ ও ঘুগনি খাওয়ায়। এরপর নির্জন ওই পুকুরের কাছে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে খুন করে দেহ পুকুরে ফেলে দেয়।
পুলিস সূত্রে খবর, মাসদুয়েক আগে অভিযুক্তের সঙ্গে নাবালিকার বাবার একবার ঝামেলা হয়েছিল। অভিযুক্ত জানিয়েছে, তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন নাবালিকার বাবা। যদিও ওই বিষয়টি মিথ্যে বলে জানিয়েছেন মৃতার বাবা।