Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালারে খুন: ধৃতরা বাড়ি ফিরতেই হামলা

প্রায় ছয়মাস আগের একটি খুনের ঘটনায় ধৃতরা জামিনে বাড়ি ফিরতেই ফের উত্তেজনা ছড়াল সালার থানার মালিহাটি গ্রামে

সালারে খুন: ধৃতরা বাড়ি ফিরতেই হামলা
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: প্রায় ছয়মাস আগের একটি খুনের ঘটনায় ধৃতরা জামিনে বাড়ি ফিরতেই ফের উত্তেজনা ছড়াল সালার থানার মালিহাটি গ্রামে। রবিবার ঈদের নামাজের মাঝেই জামিনে ছাড়া পাওয়া অভিযুক্তদের উপর হামলার ঘটনা ঘটল। এই ঘটনায় জখম দু’জনকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে সেখানে সালার থানার প্রচুর পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এদিন দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ছয়মাস আগে মালিহাটি গ্রামের বাসিন্দা আলাই শেখ (৫১) নামে এক প্রৌঢ় খুন হন। ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের এক তৃণমূল নেতার বাইকে চড়ে বাড়ি ফেরার সময় দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালায়। ওই সময় আলাই শেখকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। পরে হাসপাতাল যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় মৃতের স্ত্রী ১১ জনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
খুনের অভিযোগ পেয়ে সালার থানার পুলিস পরবর্তীতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে মালিহাটি গ্রামের আশরাফুল শেখ ও আলম শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন আগে এই দু’জন জেল থেকে জামিনে ছাড়া পান।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ধৃতরা জামিনে ছাড়া পেয়ে গ্রামে ফিরতেই ফের চাপা উত্তেজনা শুরু হয়ে যায়। তলে তলে উভয়পক্ষ হামলার প্রস্তুতি নিতে থাকে। এদিন তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন গ্রামের খাদিমপাড়া ইদগাহ তলায় ঈদের নামাজ শুরু হয়। কিন্তু নামাজ শেষ হওয়ার মুখে ইদগাহ গেটের সামনে কয়েকজন দুষ্কৃতী লাঠিসোটা নিয়ে হাজির হয়। সেইসময় দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে জামিনে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিদের উপর লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। আশরাফুল ও আলমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। প্রথমে তাদের সালার গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উভয়কে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। জখম আশরাফুল বলেন, এদিন আমরা সাধারণ পোশাকে ঈদের নামাজ সেরে বেরিয়ে আসছিলাম। সেই সময় অতর্কিতে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আতু শেখ বলেন, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল জানি না। নামাজ শেষ হওয়ার আগেই আমাদের ওপর হঠাৎ করে হামলা চলে। ওদের কাছে বোমাও মজুত ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ভেবে হয়তো বোমা ফাটানো হয়নি।
এদিকে ঘটনার সময় সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। আতঙ্কিত মানুষজন এদিক ওদিক ছুটে পালাতে থাকেন। ভিড়ের চাপে কেউ পড়ে যান। কারও জামা কাপড়ও ছিঁড়ে যায়। অনেকে খুলে রাখা জুতো না নিয়েই সেখান থেকে পালিয়ে যান। এবিষয়ে মালিহাটি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি রেজাউল শেখ বলেন, একটি খুনের ঘটনায় ধৃতরা জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছিল কয়েকদিন আগে। এদিন তাদের উপরই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এমন একটি দিনে এই অপ্রীতিকর ঘটনার চরম নিন্দা করছি।
সালার থানার পুলিস জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ