Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে পাথর শিল্পাঞ্চলে খুনের ঘটনা, ঝাড়খণ্ডের শার্প শ্যুটার ‘বাঘী’ পুলিসের জালে

রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চলে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় ঝাড়খণ্ডে ধরা পড়ল শার্প শ্যুটার। নাম সনাতন মারিয়া ওরফে বাঘী। তিপান্নের আশপাশে বয়স।

রামপুরহাটে পাথর শিল্পাঞ্চলে খুনের ঘটনা, ঝাড়খণ্ডের শার্প শ্যুটার ‘বাঘী’ পুলিসের জালে
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চলে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় ঝাড়খণ্ডে ধরা পড়ল শার্প শ্যুটার। নাম সনাতন মারিয়া ওরফে বাঘী। তিপান্নের আশপাশে বয়স। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের মহেশপুর থানার ডুমুরঘাঁটি গ্রামে। ধৃতকে সুপারি কিলার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল বলে পুলিসের দাবি। ‘টার্গেট’কে খতম করে সে ডুমুরঘাঁটি গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। শনিবার রাতে সেই বাড়ি ঘিরে ফেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, বাঘী একজন দাগী দুষ্কৃতী। ২০০০ সালে মহেশপুর থানার ইন্সপেক্টরকে গুলি করা ছাড়াও একাধিক অপরাধে জড়িত বাঘী। ১৩ বছর জেলও খেটেছে। রবিবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মণিরুল ইসলাম বলেন, ধৃতের দশদিন পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন বিচারক।  

Advertisement

গত রবিবার ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চল নিরিষা গ্রামে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই করে দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সুদীপ বাস্কি নামে বছর আঠাশের এক  ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি রামপুরহাটের সুলঙ্গা গ্রামে। ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে, শুধুমাত্র ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে সুদীপকে খুন করা হয়নি। তদন্তে এমনটাই উঠে আসে। মৃতের পরিবারের তরফেও জানানো হয়, গ্রামেরই কয়েকজন সুদীপকে মারার হুমকি দিত। সেইমতো পুলিস সুলঙ্গা গ্রামের অলড্রেন বাস্কি, রাজেন টুডু, অক্ষয় মির্ধা ও অমিত টুডুকে আটক করে। তাদের দীর্ঘ জেরার পর গত বুধবার পুলিস চারজনকেই গ্রেপ্তার করে। 
পুলিস জানিয়েছে, ওই ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী ধৃত চারজন। বর্তমানে তারা পুলিস হেফাজতে। জেরা করে পুলিস জানতে পারে, সুদীপকে খুন করার জন্য ঝাড়খণ্ডের দাগী দুষ্কৃতী বাঘীর টিমকে সুপারি দিয়েছিল ধৃতরা। পুলিস নিশ্চিত হতে এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তাতেই দেখা যায়, খুনের আগে পরপর দু’টি রবিবার নিরিষা গ্রামের ওই চায়ের দোকানে রেকি করে যায় বাঘী ও তার দলবল। ঘটনার দিনও তাকে বাইকে চেপে যেতে দেখা গিয়েছে। এরপরই পুলিস বাঘীর খোঁজে নেমে ঝাড়খণ্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। 
পুলিস জানিয়েছে, দু’হাতে পিস্তল চালাতে ওস্তাদ বাঘী। ঝাড়খণ্ডের দুমকা, দেওঘর পর্যন্ত তার দুষ্কৃতীরাজ চলে। কিন্তু কেন এই খুন? পুলিস সূত্রের দাবি, মূলত তোলাবাজি এবং এলাকা দখল নিয়ে ধৃতদের সঙ্গে সুদীপের ঝামেলা দীর্ঘদিনের। সুদীপ এলাকায় দাদাগিরি চালাত। ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় পাথর নিতে আসা গাড়ি থেকে তোলাবাজি করত। শিল্পাঞ্চলের নিয়মানুযায়ী, খাদানে বোল্ডার নিতে আসা গাড়িগুলিকে লাইন দিতে হয়। সেগুলিকে সরিয়ে সুদীপ নিজের ছাড়াও কন্ট্রাকে থাকা গাড়িগুলিকে আগে ঢুকিয়ে বোল্ডার লোড করাত। সপ্তাহ শেষে সেই টাকা কালেকশন করত সে। যার পরিমাণ বিপুল। সেটাই অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপরই তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে অলড্রেন বাস্কি সহ ওই চারজন।  আর এই খুনে কন্ট্রাক্ট কিলার হিসেবে যুক্ত করা হয় বাঘী ও তার দলবদলকে। ওইদিন খুন করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে চলে এসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লুটের টাকা ভাগ করে তারা। পুলিস জানিয়েছে, বাঘীকে জেরা করে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি তার দলবদলের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। এদিকে, শার্প শ্যুটার লাগিয়ে খুনের ঘটনা সামনে আসতেই পাথর শিল্পাঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ