Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চার বছরের মেয়েকে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে খুন, গ্রেপ্তার বাবা, পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি

পরকীয়ায় জড়িত স্ত্রী। এমনই সন্দেহে চলত নির্যাতন। তা সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী বাপেরবাড়ি চলে যান।

চার বছরের মেয়েকে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে খুন, গ্রেপ্তার বাবা, পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পরকীয়ায় জড়িত স্ত্রী। এমনই সন্দেহে চলত নির্যাতন। তা সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী বাপেরবাড়ি চলে যান। সেই সময় চার বছরের মেয়েকে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে খুনের অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম পিউ ঘোষ(৪)। শুক্রবার রাতে ধুবুলিয়া থানা এলাকার ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জলঙ্গি নদী থেকে তাকে উদ্ধার করে। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিস‌ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। ঘটনায় অভিযুক্ত বাবু ঘোষকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার তাকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি মত্তাকিনুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি অভিযুক্ত বাবু ঘোষ তার মেয়েকে জলঙ্গি ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দিয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাবুর বাড়ি মায়াকোল এলাকায়। সে রঙের কাজ করে। ছ’বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অশান্তি লেগে থাকত। মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে বাবু তার স্ত্রীকে মারধর করত বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে বাবু সন্দেহ করতে থাকে, তার স্ত্রী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর অশান্তি চরমে ওঠে।‌ শুক্রবার দোলের দিন দুপুরে সে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারধর করে। তখনই স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। মেয়ে পিউকে তিনি সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলেও বাবু বাধা দেয়। স্ত্রী বাপেরবাড়ি চলে গেলে সন্ধ্যার দিকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় বাবু। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঙ্গি ব্রিজের উপর মেয়েকে সে বেশ কয়েকবার আছাড় মারে। তারপর ব্রিজ থেকে মেয়েকে নদীতে ফেলে দেয়। তারপর সে বাড়ি চলে এসে তার মাকে এই কুকীর্তির কথা জানায়। এরই মধ্যে গ্রামেও বিষয়টি জানাজানি হয়। এলাকার লোকজন তাকে চেপে ধরে। তবে সে প্রথমে মেয়েকে খুনের কথা অস্বীকার করে। পাড়ার লোকজনকে সে জানায়, সে তার মেয়েকে মামার বাড়িতে রেখে এসেছে। সেইমতো এলাকার লোকজন বাবুর শ্বশুরঘরে খোঁজ করে। কিন্তু, সেখানে সন্ধান না পেয়ে থানায় জানায়। পুলিস এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করে। তৎক্ষণাৎ পুলিস ও এলাকার লোকজন জলঙ্গি নদীতে খোঁজ শুরু করে। রাত ১০টা নাগাদ নদী থেকে পিউর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
মৃতার দাদু মনোজ ঘোষ বলেন, ‘বাবু মাঝেমধ্যেই আমাদের মেয়েকে মারধর করত। আমাদের মেয়ের কোনও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল না। বাবু‌ মদ্যপ অবস্থায় প্রতিদিন বাড়ি ফিরত। দোলের দিনও তাই করে। তাই আমাদের মেয়ে বাপেরবাড়ি চলে আসে। নাতনিকেও আনতে চেয়েছিল। কিন্তু, বাবু আনতে দেয়নি।‌’
ধুবুলিয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘আমি লোকজন নিয়ে বাবুকে জিজ্ঞাসা করলাম মেয়েকে কোথায় রেখেছে। কিন্তু, ও কিছুই বলছিল না। প্রতিবার বলছিল মেয়েকে অন্য জায়গায় রেখে এসেছে। আমি থানায় খবর দিই।‌ পুলিসের কাছে মেয়েকে খুনের বিষয়টি স্বীকার করে। নিজের মেয়েকে যেভাবে মেরেছে তাতে আমরা ওর ফাঁসির সাজা চাইছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ