Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফ্লেক্স, ব্যানারের দাপটে কাজ কমেছে, বিকল্প পেশার খোঁজে দেওয়াল শিল্পীরা

পুজোর মরশুমে দোকানের বোর্ড ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থার হয়ে দেওয়াল লিখে একসময় পেট চালাতেন ভূতনাথ, সৌরভরা। কিন্তু আজ দিন বদলেছে।

ফ্লেক্স, ব্যানারের দাপটে কাজ কমেছে, বিকল্প পেশার খোঁজে দেওয়াল শিল্পীরা
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: পুজোর মরশুমে দোকানের বোর্ড ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থার হয়ে দেওয়াল লিখে একসময় পেট চালাতেন ভূতনাথ, সৌরভরা। কিন্তু আজ দিন বদলেছে। ফ্লেক্স ও ব্যানারের চাপে কাজ কমেছে শিল্পীদের। বাধ্য হয়ে অনেক দেওয়াল শিল্পীই রোজগারের বিকল্প সন্ধান করছেন। পুজোর মুখে আউশগ্রামের দেবশালার ভূতনাথ চট্টোপাধ্যায় ও বাহাদুরপুরের সৌরভ খাঁ’দের হাতে তেমন কাজ নেই। বাধ্য হয়ে তাঁরা ট্যাটু ও থার্মোকলের কিছু কাজ করছেন। 

Advertisement

ভূতনাথবাবু প্রায় আড়াই দশক ধরে কাঁকসা, বুদবুদের নানা প্রান্তে দেওয়াল লিখন করছেন। তিনি জানান, ছেলেবেলা থেকেই ছবি আঁকতাম। পরে দেওয়াল লিখনে ঝোঁক বাড়ে। একসময় পেশায় বাসের পরিবহণ কর্মী ছিলেন। কিন্তু শিল্পের টানে সেসব ছেড়ে পেশা হিসেবে আঁকড়ে ধরেন দেওয়াল লিখনকে। ভূতনাথবাবুর কথায়, এখন ব্যানার ও ফ্লেক্সের দাপট বেশি। আমাদের জীবিকা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আগে পুজোর সময় খাবার ও পোশাকের দোকান থেকে বিজ্ঞাপন লেখার  ডাক পেতাম। এখন হাতে গোনা কাজ জোটে। অথচ আগে বিশ্বকর্মা থেকে দুর্গাপুজো পর্যন্ত নাওয়া-খাওয়ার সময় পেতাম না। সপ্তমী পর্যন্ত কাজের চাপ থাকত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। 
একই অবস্থা সৌরভেরও। তিনিও অভিরামপুর সহ আউশগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বোর্ড ও দেওয়ালে বিজ্ঞাপন লিখছেন। কিন্তু তাঁরও আগের চেয়ে কমেছে কাজ। তাঁর কথায়, আগে ফ্লেক্স ছিল না। তাই হাতেই লিখতে হতো সব। কিন্তু এখন শিল্পীদের বিজ্ঞাপন লেখার ডাক আসছে না তেমন। আসলে রঙের দাম খুব বেড়ে গিয়েছে। সব হিসাব ও পারিশ্রমিক মিলিয়ে ধার্য টাকার কথা বললে অনেকেই রাজি হচ্ছেন না। কিন্তু গ্রাহক বুঝতে চাইছেন না জিনিসের দাম বাড়ায় বেড়েছে খরচ। আমাদের লাভ খুব সামান্যই থাকছে। 
বিভিন্ন এলাকার শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্কোয়ার ফুট হিসাবে গড়ে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই সেই খরচ করতে চান না। ফলে তাঁরা অল্প টাকায় ফ্লেক্স বানিয়ে নেন। 
এক শিল্পী বলেন, আমরা কোন তারিখে কাজ করলাম সেটা উল্লেখ করে দিই। ওই কাজ গড়পড়তা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ বছর থাকবেই। কিন্তু ফ্লেক্স, ব্যানার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। 
এক বহুজাতিক বিপণন সংস্থার তরফে মানকরের বাসিন্দা সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ফ্লেক্স তৈরিতে খরচ ও সময় কম লাগে। যেমন চাইছি সেভাবে ডিজাইন করা যায়। কিন্তু হাতে লেখা বিজ্ঞাপনে খরচ বেশি। আসলে মনের টানে হাতেগোনা কাজ নিয়েই দেওয়াল শিল্পীরা শিল্পসত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ