নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাংলা ভাষার ‘অবমাননা’র অভিযোগ। শহরের একটি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জলপাইগুড়ি পুরসভার। অভিযোগ, হোর্ডিংয়ে তামিল ও ইংরেজি ভাষায় ওই রেস্তরাঁর নাম বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকলেও, বাংলা ভাষায় খুদে অক্ষরে লেখা হয়েছে, যা চোখে না পড়ার মতো। অন্য ভাষায় যেখানে বড় অক্ষরে রেস্টুরেন্টের নাম লেখা হয়েছে, সেখানে বাংলায় কেন খুদে অক্ষরে লেখা হল, তা নিয়ে সোমবার প্রতিবাদে সরব হয় একটি সংগঠন। আজ, মঙ্গলবার ওই রেস্তরাঁর উদ্বোধন। তার আগে ভাষা-বিতর্কে অস্বস্তিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ।
জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা বাংলায় থেকে বাংলা ভাষা ব্যবহারে কুণ্ঠা বোধ করেন, তাঁরা বাংলার বিরোধী বলে মনে করি আমরা। ওই রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ হোর্ডিংয়ে অন্যান্য ভাষায় বড় হরফে দোকানের নাম লিখলেও বাংলায় অতি ক্ষুদ্র হরফে লিখেছে। যা বাংলা ভাষাকে অবমাননা করার শামিল বলে মনে করি আমরা।
ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে সাতদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ওই হোর্ডিং বদলাতে হবে। বাংলা ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে বড় হরফে হোর্ডিংয়ে দোকানের নাম লিখতে হবে। অন্য ভাষা থাকুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সবার উপরে বাংলা ভাষায় লিখতে হবে। এবং সবচেয়ে বড় হরফে লিখতে হবে। না হলে ওই রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ করব। পুরসভার হুঁশিয়ারির পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ অবশ্য দ্রুত দোকানের বোর্ড বদলের আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে, মহালয়া থেকে শহরের সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলায় লিখতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে জলপাইগুড়ি পুরসভার তরফে। এনিয়ে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শহরে যত দোকান, শপিংমল রয়েছে, সবাইকে প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলায় লিখতে হবে। অন্য ভাষা থাকুক, কিন্তু বাংলায় সবচেয়ে বড় করে লেখা থাকতে হবে। কোনওভাবে বাংলা ভাষার অমর্যাদা হলেই আমরা পুরসভার তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। মহালয়া থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশ
কার্যকর হবে।