মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: দু’বছরের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ল মালদহ কোর্ট স্টেশন চত্বরের ‘বন্দেভারত’ এক্সপ্রেসের ধাঁচে তৈরি রেস্তরাঁ। মাসদুয়েক আগে বন্ধ হওয়ার পর রেস্তরাঁটি কার্যত গবাদিপশুর বিচরণভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্টেশনের ম্যানেজার প্রদীপ কুমার রায় বলেন, রেস্তরাঁয় লোকজন আসছিলেন না, সেজন্যই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেল এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯০৪ সালে পুরাতন মালদহ শহরের মালদহ কোর্ট স্টেশনের যাত্রা শুরু হয়। তখন সেটি ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের (ইবিআর) অধীনে ছিল। দুই দশক আগেও স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নত ছিল না। কয়েক বছর আগে ধাপে ধাপে মানোন্নযন হচ্ছে। কাটিহার, শিলিগুড়িগামী আপ এবং ডাউন একাধিক ট্রেন এই পথে চলে। যাত্রী সংখ্যাও বাড়ছিল বলে রেলের পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বর থেকে প্রায় দু’শো মিটার দূরে একটি রেস্তরাঁ খোলার পরিকল্পনা করা হয়। সেটি তৈরি হয় রেলের একটি পুরনো কামরা ব্যবহার করে। আকার দেওয়া হয় বন্দেভারতের। ভিতরে উন্নতমানের চেয়ার, টেবিল রাখার পাশাপাশি সৌন্দর্যায়ন করে ভাত, মাছ, মাংস, ফাস্টফুড খাওয়ার ব্যবস্থা করে ২০২৩ সালে রেস্তরাঁটির সূচনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জিত সরকার বলেন, ওই স্টেশনের পরিবেশ ভালো নয়। রাস্তা নেই, ধুলো ওড়ে। পাশে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার ডিপো। এলাকার শ্রমিকরাও দুঃস্থ। তাঁরা এবং যাত্রীরা সস্তার খাবার খোঁজেন। সেজন্য ওই বিলাসবহুল রেস্তরাঁটি এড়িয়ে যেতেন। পুরাতন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ বলেন, রেস্তরাঁ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। কেন্দ্র মানবদরদী নয়। ধীরে ধীরে রেল বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে। সেই পরিকল্পনা করে কোর্ট স্টেশনের অভিজাত রেস্তরাঁটি খোলা হয়। শহরের সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আমরা স্টেশনের পাশে শ্রমিকদের জন্য পাঁচ টাকায় ডিম, ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছি। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিবশঙ্কর ভট্টাচার্যের মন্তব্য, আমার ওয়ার্ডের মধ্যে ওই স্টেশন পড়ে। এসবই কেন্দ্রের ভাঁওতাবাজি।



