Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে অবৈধভাবে তৈরি বিরিয়ানির দোকানে বুলডোজার চালাল পুরসভা

শহরের পারবীরহাটায় অবৈধভাবে তৈরি হওয়া বিরিয়ানির দোকানে বুলডোজার চালাল বর্ধমান পুরসভা।

বর্ধমানে অবৈধভাবে তৈরি বিরিয়ানির দোকানে বুলডোজার চালাল পুরসভা
  • ২০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শহরের পারবীরহাটায় অবৈধভাবে তৈরি হওয়া বিরিয়ানির দোকানে বুলডোজার চালাল বর্ধমান পুরসভা। প্ল্যান ছাড়াই তিনতলা বিল্ডিংটি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিল্ডিংটির মালিককে একাধিকবার নোটিস করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁকে নির্মাণ বন্ধ করার নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। তার তোয়াক্কা না করেই বিল্ডিং তৈরি হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, পুরো বিল্ডিংটি ভেঙে দেওয়া হবে। প্রথমদিন দোকান ভাঙা হয়েছে। বুধবার বাকি দু’টি ফ্লোর ভাঙা হবে। এর আগে আমরা একটি বহুতলের অবৈধ নির্মাণ ভেঙেছি। শহরে কেউ অবৈধ নির্মাণ করে পার পাবে না। শহরে রাজ আমলে তৈরি সুউচ্চ ঘড়ি ঢেকে বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। ওই বিল্ডিং মালিককেও আমরা একাধিকবার অবৈধ নির্মাণ ভাঙার জন্য বলেছি। তিনি কর্ণপাত করছেন না। এবার আমরা অ্যাকশনে নামব।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। সেগুলি চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। বিরিয়ানির দোকান ভাঙার পর শহরের বাসিন্দারা আশা করছেন, এবার বাকি অবৈধ নির্মাণগুলিতেও বুলডোজার চলবে। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, শহরে অনেক অবৈধ কাজ হয়েছে। সেগুলি অনেক আগেই বন্ধ করা দরকার ছিল। দেরিতে হলেও পুরসভা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু বহু অবৈধ নির্মাণকারীর মাথার উপর প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুরসভার কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শহরে একাধিক পুকুর ভরাট করেও অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। বর্ধমানে পুকুর রক্ষা করাই যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এক আধিকারিক বলেন, অত্যন্ত কৌশলে অবৈধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা তিন থেকে চারতলা তৈরির অনুমতি নিচ্ছে। পরে সেই বিল্ডিং পাঁচ থেকে ছ’তলা করা হচ্ছে। এমনকী, অনুমতি ছাড়াই বহু গলির ভিতরেও বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বড়সড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি দৃষ্টিকটূ হয়ে গিয়েছিল। এদিন ম্যা঩জিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিল্ডিংটি ভাঙা হয়েছে। পুলিসও সহযোগিতা করেছে। বাকি অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভাঙার আগে অবৈধ নির্মাণকারীদের একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়। কাজ বন্ধ করার জন্যও বলা হয়। কিন্তু অনেকে সেসবের তোয়াক্কা না করে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তাতে কিছুদিন ভাঙার কাজ বন্ধ থাকছে ঠিকই। পরে আদালতের নির্দেশেই তা ভাঙা হচ্ছে। এর আগেও কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া  শহরের বিভিন্ন বিল্ডিং তৈরি করে নির্মাণকারীরা কোটি কোটি টাকার মুনাফা করছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নির্মাণ যখন হচ্ছে তখন সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলার বাধা দিচ্ছেন না কেন? তিনিই তো এলাকার অভিভাবক। অবৈধ নির্মাণের সময় চোখ বন্ধ করে রাখছেন কী কারণে, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ