সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রক্ষণাবেক্ষণ অভাবে ক্রমশ ঝোপ-জঙ্গলে মজে যাচ্ছে নিকাশি কাঁদর। বর্ষার আগে শহরের জল নিকাশির অন্যতম সেই কাঁদর পরিষ্কারের কাজে হাত লাগাল রামপুরহাট পুরসভা।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রক্ষণাবেক্ষণ অভাবে ক্রমশ ঝোপ-জঙ্গলে মজে যাচ্ছে নিকাশি কাঁদর। বর্ষার আগে শহরের জল নিকাশির অন্যতম সেই কাঁদর পরিষ্কারের কাজে হাত লাগাল রামপুরহাট পুরসভা।
ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানা এলাকায় থেকে এই কাঁদরটি রামপুরহাটের কুসুম্বা অঞ্চলের পাশ দিয়ে এসে শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে দ্বারকা নদে মিশেছে। রামপুরহাট শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁদরের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিমি। সংস্কারের অভাবে কাঁদরের বিশাল এলাকা মজে যাচ্ছিল।
রামপুরহাট পুরসভা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরশুমে অতিবৃষ্টি বা সামান্য বৃষ্টিতেই রামপুরহাট শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাকলা মাঠ এলাকায় জমা জলে স্থানীয় বাসিন্দারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকা যাওয়ার আগে ছ ফুঁকো রেলব্রিজের তলায় জমা জলে এক, দুই, তিন ও ১৭ এই চারটি ওয়ার্ড শহর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রামপুরহাট শহরের ১, ৩, ১৬, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডগুলির পাশ দিয়ে যাওয়া কাঁদর ছাপিয়ে জল রাস্তায় উঠে পড়ে। নিয়মিত কাঁদর পরিষ্কার না হওয়ায় রামপুরহাট দুমকা রোডে জল উঠে ফি বছর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কার্যত রামপুরহাট শহরের বর্ষার জলচিত্র এমনই। তাই নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভও রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে চাকলা মাঠ থেকে সান ঘাটাপাড়া পর্যন্ত কাঁদরের পাড়ের বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় বাস করে।
সম্প্রতি আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যেই বর্ষা ঢুকে পড়বে। তাই কাঁদর পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে পুরসভা। গত শনিবার থেকে পুরসভা এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁদরের জঞ্জাল সাফাই করার জন্য যন্ত্র নামানো হয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, বর্ষার সময় যাতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার ত্রুটি না থাকে, শহরের মধ্যে জল না জমে তার জন্য পুরসভার নিজস্ব তহবিল ও যন্ত্র নামিয়ে আগাম কাঁদর থেকে জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কাঁদর সংস্কারের কাজ শেষ হতেই মহানালা পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্ষা আসছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই কাঁদর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে অতিবৃষ্টিতে শহরে জল জমার সমস্যা থাকবে না।
যদিও শহরের বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, শুধু জঞ্জাল সাফাই করলেই সমস্যা মিটবে না। পলি জমে কাঁদরের গভীরতা কমে এসেছে। তাই প্রকৃত সংস্কার করে গভীরতা না বাড়ালে এবারও বর্ষায় শহরের জল ছবি ফুটে উঠবে। নিজস্ব চিত্র