নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: হাড়হিম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল কুলটি থানার নিয়ামতপুর। বাড়ির অদূরে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীকে মাথায় গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার রাতে এই শ্যুটআউটের পুরো ঘটনাটি সিসিক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বাইকে দুই যুবক অপেক্ষা করছিল। জাভেদ বারিক(৫০) সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মাথা লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি করে একজন দুষ্কৃতী। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জাভেদ সাহেব। ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা রাতেই জিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, জলপাইগুড়িতে তাঁদের একটি পারিবারিক জমি কিনতে কার্যত দখল করতে চাইছে আসানসোল বস্তিন বাজারের একজন জমি মাফিয়া। তিন বছর ধরে জমিটি লিখে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়েছিল। পুলিসকে বিষয়টি জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনার পর পুলিস তদন্তে নেমে মৃতের খুড়তুতো ভাই ইন্তেখাব আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিসের দাবি, জাভেদ সাহেবকে শার্প শ্যুটারদের চিনিয়ে দিয়েছিল ইন্তেখাব। নিয়ামতপুরের মতো বড় ব্যবসা কেন্দ্রে এই শ্যুটআউটের ঘটনায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। এদিন বিজেপির নেতারা এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বাজারে পান খেতে গিয়েছিলেন জাভেদ সাহেব। পান খেয়ে রহমনপাড়া হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেখানেই একটি অন্ধকার গলিতে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল দুই দুষ্কৃতী। একটি বাইকে তারা বসেছিল। জাভেদ সাহেব তাদের পাশ পেরতেই বাইক চালিয়ে তার কাছে গিয়ে মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায় একজন দুষ্কৃতী। এরপর তারা বাইক চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জাভেদ সাহেব। স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামেন পুলিসের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোল উদ্ধার হয়। এরপরই এলাকার বাসিন্দারা পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলার বিষয়টি পুলিসকে জানানো সত্ত্বেও তারা কেন গুরুত্ব দেয়নি সেই প্রশ্ন উঠছে। নিয়ামতপুরের মতো জনবহুল এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দাপাদাপি করছে। পুলিসের গোয়েন্দারা তা জানতে পারছে না। একাধিক প্রশ্ন তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা জিটি অবরোধ করেন। অবশ্য পুলিস দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ উঠে যায়। এই ঘটনার পর পুলিস তদন্তে নেমে মৃতের খুড়তুতো গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে পুলিস জানতে পারে ইন্তিখাবই দুষ্কৃতীদের জাভেদ সাহেবকে চিনিয়ে দিয়েছিল। পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আসানসোল আদালতে পেশ করলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মৃতের ভাই পারভেজ খান বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের পিসি জলপাইগুড়িতে দু’বিঘে একটি জমি কিনেছিলেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে ওই দুই বিঘে জমির মালিক আমরা। বস্তিন বাজারের একজন জমি মাফিয়া মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে ওই জমি তাদের নামে লিখে দিতে বলে। আমরা রাজি না হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এক মাসের মধ্যে পারিবারের কাউকে খুন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিল। পুলিসকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। পুলিস ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুষ্কৃতীরা আমার দাদাকে মেরেই ফেলল। এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদেই খুন বলে মনে করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র