নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জবরদখল হয়ে যাওয়া স্টলের সেলামি ও ভাড়া আদায়ে সচেষ্ট হল বাঁকুড়া পুরসভা। সোমবার পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার ও ভাইস চেয়ারম্যান হীরালাল চট্টরাজ কর্মীদের নিয়ে বাঁকুড়া শহরের গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানকার স্টলগুলির সিংহভাগ ব্যবসায়ীরা কার্যত দখল করে বসে রয়েছেন বলে অভিযোগ। স্টলের সেলামি ও ভাড়া বাবদ পুরসভার কয়েক লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। নোটিস দেওয়ার পরেও সেই টাকা আদায় করা যায়নি। পুরসভার বর্তমানে ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। কর্মীদের বেতন ও পেনশন মেটাতে পুর কর্তৃপক্ষের নাভিশ্বাস উঠছে। ফলে ‘টানাটানির সংসারে’ কয়েক লক্ষ টাকার স্টল ভাড়া জমা হলে অনেকটাই সুরাহা হবে বলে পুর কর্তারা মনে করছেন। সেই কারণে অবিলম্বে বকেয়া আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ডে ১৯২টি স্টল রয়েছে। কিন্তু, স্টলগুলির নম্বর ঠিক নেই। সেই ফাঁক গলে অনেকে সেগুলি জবরদখল করে বসে রয়েছে। ফলে আপাতত স্টলগুলির নম্বরিং করা প্রয়োজন। বহু স্টল এমন রয়েছে, যেখান থেকে পুরসভা এক টাকাও পায়নি। সিংহভাগ স্টলেরই হয় সেলামি অথবা ভাড়া বকেয়া পড়ে রয়েছে। ওই টাকা আদায়ের জন্য এদিন আমরা স্টল পরিদর্শন করি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনি আরও বলেন, এর আগে আমরা ব্যবসায়ীদের নোটিস পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু, তাতে অনেকেই সাড়া দেননি। ব্যবসায়ীদের পাঁচ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বকেয়া রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুরসভার চুক্তি পর্যন্ত নেই। আপাতত আমরা সেই চুক্তি করে বিষয়টি পাকাপোক্ত করব। পুরসভা চালাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। কর্মীদের বেতন ও পেনশন দিতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে। ভাড়ার টাকা উঠে এলে সমস্যার সমাধান হবে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরে পুরসভার আওতায় বহু স্টল রয়েছে। পুরসভার তরফে স্টল নির্মাণের পর নির্দিষ্ট টাকার (সেলামি) বিনিময়ে আগ্রহীদের মধ্যে তা বণ্টন করা হয়। পরে মাসে মাসে ভাড়া নেওয়া হয়। নজরদারির অভাবে পুরসভার অনেক স্টল জবরদখল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা সেলামির টাকা দিলেও মাসিক ভাড়া পুরসভাকে দেন না বলে অভিযোগ। যদিও ব্যবসায়ীদের একাংশ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছেন। পুর কর্মীদের একাংশের মদতেই জবরদখলকারীদের বাড়বাড়ন্ত বলে তাঁরা পাল্টা দাবি করেছেন। জবরদখলকারীদের জন্য নিয়ম মেনে স্টল ভাড়া নেওয়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। পুর কর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র