নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাসের সরকারি দেহরক্ষীকে তাড়া করছেন মহিলারা। এমনই একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কর্ণজোড়ায় সাধারণ মানুষকে নিজের সার্ভিস রিভলবার নিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে পুর চেয়ারম্যানের দেহরক্ষীর এই দশা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ পুলিসের কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত। ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের পুলিস সুপার সানা আখতার বলেন, লিখিত অভিযোগ পুলিসের কাছে আসেনি। অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে। চেয়ারম্যান বলছেন, বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কয়েকজন ওই দেহরক্ষীকে হেনস্তা করে। তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। (যেটি বর্তমান পত্রিকা যাচাই করেনি) তাতে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ পোশাকে একজন দৌঁড়ে যাচ্ছেন। পিছনে কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ ছুটছেন। লোকজনকে বলতে শোনা গিয়েছে, পুলিস কর্মী সানাউল সার্ভিস রিভলবার দিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন। সানাউলকে পিছন থেকে ধরে ফেলেন কয়েকজন। জামার কলার ধরে টেনে ধরেন এক মহিলা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সানাউলের জামা রক্তাক্ত। মাথায় ক্ষত। ঝরছে রক্ত। এই সানাউল রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাসের দেহরক্ষী।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিস সুপারের বাংলো লাগোয়া এলাকায় ওই পুলিস কর্মীর তাড়া খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এক ব্যক্তি বাড়ি করতে গেলে পুলিস কর্মী টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষ সেটার প্রতিবাদ করাতে সার্ভিস রিভলভার দেখিয়ে তিনি হুমকি দেন বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত জনরোষের মুখে পড়ে দৌড়ে পালানোর সময় কেউ ভিডিও রেকর্ড করে। এই ভিডিও ভাইরালের পর থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, একজন পুলিস কর্মীকে নিয়ে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখে মনে হচ্ছে ওই কর্মী কোনও অপরাধ করে পালাচ্ছেন। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজের বক্তব্য, ভাইরাল ভিডিও দেখে মনে হয়েছে, ওই পুলিস কর্মী বন্দুক উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন। যা মেনে নেওয়া যায় না। পুলিস ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত করুক। জেলা কংগ্রেসের আরএক নেতা তুষারকান্তি গুহ বলেন, নিশ্চিতভাবে ওই পুলিসকর্মীও ওই রাতে কোনও অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিলেন। এই অবস্থায় মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন।
এনিয়ে পুর প্রশাসক বলেন, যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে স্পষ্ট আমার দেহরক্ষী কাউকে ভয় দেখাচ্ছেন না। উল্টে নিজেই আক্রান্ত হচ্ছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাত বছর ধরে সানাউল আমার দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত। কখনও খারাপ কিছু ওর মধ্যে লক্ষ্য করিনি। যে বা যারা ওকে ধাওয়া করছে, তারা কতটা ভয়ঙ্কর সেটাই ওই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে। তাঁর সার্ভিস রিভলবারটি ছিনতাই হয়ে যায়নি, সেটা যে তিনি আগলে রাখতে পেরেছেন, এটাই রক্ষে। দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁকে ফাঁসাতে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।