সংবাদদাতা, মানকর: পানাগড়ে ১৯নম্বর জাতীয় সড়কের হাসপাতাল মোড়ের রাস্তা বেহাল দশায় রয়েছে। সেখানে বর্ধমান ও দুর্গাপুর-দু’দিকে যাওয়ার রাস্তাতেই গর্ত হয়েছে। দুর্গাপুরগামী রাস্তায় জল জমে পুকুরের রূপ নিয়েছে। রাস্তার খারাপ দশার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ি চালকরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা যে কোনওদিন বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। জাতীয় সড়কের এক আধিকারিক বলেন, ওখানে অস্থায়ীভাবে মেরামত হয়েছিল। ফের রাস্তা খারাপ হয়েছে। পেভার ব্লক বসিয়ে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে পানাগড়ের হাসপাতাল মোড়। পানাগড়-মোড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ধরে আসা বাস ও লরি এই মোড় থেকেই বর্ধমান বা দুর্গাপুরের দিকে বাঁক নেয়। জাতীয় সড়ক ধরে আসা একাধিক বাস, লরি এই মোড় থেকেই মোড়গ্রাম যেতে রাজ্য সড়ক ধরে। কিন্তু মোড়ের মাথাতেই রাস্তায় গর্ত হয়ে আছে।
এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ত্রিলোকচন্দ্রপুর, দোমড়া সহ কাঁকসা ব্লকের বাসিন্দারা পানাগড় বাজারের উপর নির্ভর করেন। তাঁরা নিয়মিত এই মোড় পেরিয়ে পানাগড় বাজার যান। বোলপুর, সিউড়ি, রামপুরহাট সহ একাধিক রুটের বাসও সেখান দিয়ে যায়। বোলপুরের দিক থেকে কলকাতা, দুর্গাপুরগামী বাসও এই মোড় দিয়েই চলাচল করে। কিন্তু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হচ্ছে না।
লরিচালক বিশ্বনাথ লোহার বলেন, বোলপুরের দিক থেকে গাড়ি নিয়ে কলকাতায় যাচ্ছিলাম। রাজ্য সড়ক থেকে সার্ভিস রোড ধরে ১৯নম্বর জাতীয় সড়কে উঠতেই আমার গাড়ি বড় গর্তে পড়ে গিয়েছিল। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
সিউড়ির বাসিন্দা প্রণব গোস্বামী বলেন, এখন সড়ক যোগাযোগ উন্নত হয়েছে। সিউড়ি-কলকাতা সরাসরি বাস চলছে। কিন্তু পানাগড়ের ওই রাস্তায় গর্তের কারণে চালকদের সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে রাস্তার হাল আরও খারাপ হয়েছে। এলাকার পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা শেখ সামসুদ্দিন বলেন, ছয়মাস ধরে এই পরিস্থিতি রয়েছে। বৃষ্টি হলেই দুর্ঘটনা ঘটছে। পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়ার জন্য ছাড়তেও ভয় লাগছে। অপর বাসিন্দা অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, রাস্তার অবস্থা ভয়ানক। প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাড়াতাড়ি রাস্তার এই অংশ সংস্কার করা দরকার।