Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কংসাবতীর বাঁধে একাধিক ফাটল, সরানো হল গর্ভবতী মহিলাদের, পাঁশকুড়ায় বন্যার শঙ্কা

কংসাবতীর নদীবাঁধ ভেঙে যেকোনও মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কায় প্রমাদ গুণছেন পাঁশকুড়াবাসী। জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা পার করে একেবারে বিপজ্জনক লেভেলে বইছে।

কংসাবতীর বাঁধে একাধিক ফাটল, সরানো হল গর্ভবতী মহিলাদের, পাঁশকুড়ায় বন্যার শঙ্কা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, পাঁশকুড়া: কংসাবতীর নদীবাঁধ ভেঙে যেকোনও মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কায় প্রমাদ গুণছেন পাঁশকুড়াবাসী। জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা পার করে একেবারে বিপজ্জনক লেভেলে বইছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোবিন্দনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নওয়াপাড়া, শহরের জন্দড়া এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় নদীবাঁধের ফাটল দিয়ে কংসাবতীর জল ঢুকতে শুরু করে। জরুরিভিত্তিতে সেই ফাটল মেরামতের চেষ্টা হয়। কিন্তু, নওয়াপাড়া এলাকায় নদীবাঁধ বেশ বিপজ্জনক। আশপাশের চার-পাঁচটি ঘর খালি করে দেওয়া হয়েছে। লাগোয়া নওয়াপাড়া শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই স্থানীয়রা মাটিভর্তি বস্তা ফেলে ফাটল মেরামতের চেষ্টা করেন। পুলিস এবং এনডিআরএফ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এছাড়া সন্তানসম্ভবা ১১৯জন মহিলাকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। 

Advertisement

টানা ২০দিনের বেশি সময় কংসাবতী নদী কানায় কানায় পরিপূর্ণ। ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার ফলে জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে। এই অবস্থায় যেকোনও মুহূর্তে নদীবাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই আশঙ্কাকে মাথায় রেখেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্পিডবোট ও সিভিল ডিফেন্স টিমের পাশাপাশি দীঘা থেকে এনডিআরএফ টিম পাঁশকুড়ায় পাঠানো হয়েছে। সন্তান সম্ভবা ১১৯জন মাকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকজনকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে। চাল, ত্রিপল ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীও মজুত করা হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে প্রশাসন।
বৃষ্টি থেমে গেলেও মুকুটমণিপুর, তারাফেনি ও ভৈরববাঁকি জলাধার থেকে একযোগে ৩০ হাজার কিউসেক হারে জল আসছে। সেই জলের চাপে পাঁশকুড়ায় কংসবতী নদীতে জলের চাপ বাড়ছে। টানা ২০ দিন ধরে নদীতে জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। বুধবার রাতে পাঁশকুড়া পুরসভা ও গ্রামীণ এলাকায় মাইকিং করে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করা হয়। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে বলা হয়। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার কৌশিক ধল বলেন, ১১৯ জন সন্তানসম্ভবা মায়ের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনকে সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে।
সেচদপ্তরের তমলুক ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার বলেন, চূড়ান্ত বিপদসীমা ছাপিয়ে নদীর জল বইছে। জলাধার থেকেও ৩০ হাজার কিউসেক হারে জল আসছে। আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি ও জরুরিভিত্তিতে কাজকর্ম চলছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপন অফিসার নিরঞ্জন মণ্ডল বলেন, স্পিডবোট, সিভিল ডিফেন্স টিম এবং এনডিআরএফ টিম পাঁশকুড়ায় পাঠানো হয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত। পর্যাপ্ত ত্রাণ, ত্রিপল ও অন্যান্য সামগ্রীও রেডি রাখা আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ