সংবাদদাতা, কান্দি: মুচলেকা দেওয়ার পরেও গোপনে নাবালিকার বিয়ে দিতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়ল বর ও কনেপক্ষের একাধিক ব্যক্তি। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্যান্ডেল খাটিয়ে এলাহি খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পুলিস ও প্রশাসনের লোকজন গিয়ে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করল। শুক্রবার ভরতপুর ১ ব্লকের সরডাঙা গ্রামের এই ঘটনায় দুই পক্ষের অনেকে আটক হয়েছে। নাবালিকাকে পাঠানো হয়েছে হোমে।
সরডাঙা গ্রামের এক ১৬ বছরের নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানতে পারে পুলিস। বৃহস্পতিবার ভরতপুর থানার পুলিস নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে পৌঁছয়। যোগাযোগ করা হয় প্রতিবেশী গ্রামের বাসিন্দা বরপক্ষের সঙ্গেও। উভয়পক্ষ পুলিসের কাছে নাবালিকার বিয়ে দেব না বলে একটি মুচলেকা দেয়।
তবে শুক্রবারই নাবালিকার বিয়ের আয়োজন করে। বিয়েতে আত্মীয়, প্রতিবেশীরা হাজির হয়েছিল। সকালের জলখাবার খাওয়ার পর মধ্যাহ্নভোজের তোড়জোর করা হচ্ছিল। সাউন্ড বক্সে বাজছিল হিন্দি সিনেমার গান। সকলেই আনন্দে মশগুল। ঠিক সেই সময়ে ভরতপুর থানার পুলিস ও ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে দেখা যায়, বর বরযাত্রী নিয়ে ছাদনাতলায় বসে রয়েছে। বর কলকাতার একটি কোম্পানিতে কাজ করে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিস ও প্রশাসনের লোকজন দেখেই বিয়েবাড়ির অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়েন। নাবালিকাকে অন্য বাড়িতে লুকিয়ে ফেলা হয়। তাকে খুঁজে পেতে পুলিসের প্রায় দেড়ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এরপর পুলিস নাবালিকার বাবা-মা ও বর সহ বরের বাবা-মাকে আটক করে। বিয়েতে হাজির আরও দু’ জনকে আটক করা হয়। ১৬ বছরের ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে হোমে পাঠান হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, নাবালিকার বিয়ের ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। ভরতপুর ১ বিডিও বলেন, মুচলেকা দেওয়ার পরেও এদিন গোপনে ফের নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে পুলিসের সাহায্যে আমরা বিয়ে বন্ধ করেছি।