সংবাদদাতা, মানকর: রাজা রামমোহন রায়ের বেদান্ত শিক্ষক বিদ্যাভূষণ উৎসবানন্দ তর্ক চূড়ামণির হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। তারপর কয়েক শতক ধরে রীতি রেওয়াজ মেনে মায়ের আরাধনা হয়ে আসছে কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের অযোধ্যা গ্রামে। আগে তালপাতার পুঁথি পড়ে পুজো হতো। এখন সেই পুঁথি থেকে মন্ত্র খাতায় লিখে নেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ঐতিহ্য স্মরণে রাখতে পুঁথিটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী মিলিয়ে মোট ৬৮ সের আতপ চালের নৈবেদ্য মাকে নিবেদন করা হয়।
কাঁকসার অযোধ্যা গ্রামের মুখোপাধ্যায়দের বাড়ির এই পুজো শুরু ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে। বাড়ির বর্তমান সদস্য রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানান, বিদ্যাভূষণ উৎসবানন্দ তর্ক চূড়ামণি রচিত চৈতন্য চরিতামৃত সংক্রান্ত বেশকিছু পুঁথি যাদুঘরে সংরক্ষিত। তিনি প্রথম এই পুজো শুরু করেন। সে সময় বর্ধমানের তৎকালীন রাজা বীরভূমের সুরুলে প্রায় ৩০ একর জমি দুর্গাপুজোর জন্য দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পুজোর খরচ আসতো। পরবর্তীকালে তা সরকারি খাস জমি হয়ে যায়। তখন সবাই ভেবেছিলেন দুর্গাপুজোর খরচ কোথা থেকে আসবে! মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরাই তখন এগিয়ে এসে এই পুজোর দায়িত্বভার নেন। বর্তমানে মুখোপাধ্যায়দের তিন শরিক পুজোর আয়োজন করে আসছেন।
এখানে একচালা স্থায়ী মণ্ডপে দুর্গার আরাধনা হয়। রীতি মেনে ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন। এদিন দেবীর সামনে চাল কুমড়ো বলি হয়। সপ্তমীতে ২২ সের আতপ চালের নৈবেদ্য দেবীকে নিবেদন করা হয়। একই প্রথা মেনে অষ্টমীতে ২৪ সের ও নবমীতে ২২ সের আতপ চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। এখানে রয়েছে বলির প্রথা। তবে তাতেও ছাগের রং নিয়ে রয়েছে কিছু নিয়ম। অষ্টমীতে সাদা ছাগ বলি দিতে হবে। নবমীতে অবশ্য ছাগের রং নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এদিন নরনারায়ণ সেবা হয়।
মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য শান্তিরাম মুখোপাধ্যায়ের কথায়, বংশপরম্পরায় আমাদের দেবী মূর্তি গড়ে আসছেন গ্রামের সূত্রধর পরিবার। বহু বছর ধরে লক্ষ্মীকান্ত সূত্রধর প্রতিমা গড়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তবে ওই পরিবারের সদস্যরাই এবারও মূর্তি গড়ছেন। এই পুজোয় বীরভূমের চণ্ডীপুর থেকে ঢোল, সানাই, বাঁশির দল আসে। তাঁরাও আসছেন বংশ পরম্পরায়। গ্রামের বাইরে রায়পুকুরে হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। তবে তার আগে হয় গ্রাম পরিক্রমা। স্থানীয়রা বলেন, প্রাচীন এই পুজো দেখতে কাঁকসার পাশাপাশি পানাগড়, দুর্গাপুর, ইলামবাজার থেকেও বহু মানুষ আসেন।