Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের স্মৃতি বহন করছে মুগবেড়িয়া নন্দ পরিবারের কালীপুজো

একটা সময় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মন্দির প্রাঙ্গণ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নীরব প্রস্তুতি হিসেবে কালীপুজোর সময় মন্দিরের সামনে বসত লাঠিখেলার আখড়া।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের স্মৃতি বহন করছে মুগবেড়িয়া নন্দ পরিবারের কালীপুজো
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: একটা সময় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মন্দির প্রাঙ্গণ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নীরব প্রস্তুতি হিসেবে কালীপুজোর সময় মন্দিরের সামনে বসত লাঠিখেলার আখড়া। বাড়ির পূর্বপুরুষ দিগম্বর নন্দ বিদ্যানিধির তত্ত্বাবধানে অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু এখানে লাঠি খেলার তালিম দিতেন। বিল্পবী কর্মকাণ্ডের বহু স্মৃতি বহন করে চলেছে ভগবানপুর-২ ব্লকের মুগবেড়িয়া নন্দ পরিবারের কালীপুজো। শুধু তাই নয়, এই পুজোয় মা কালীর সঙ্গে গৌরাঙ্গদেবও পুজিত হন। সোমবার রাতে সেই মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য মুগবেড়িয়া সহ দূরদূরান্ত এলাকা থেকে মানুষজন ভিড় জমান। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব পরমহংসদেব বলতেন, কালী ও গৌরাঙ্গ এক। এটা জানলে জ্ঞান পূর্ণ হয়। সেই ভাবনাকে পাথেয় করে মা কালী ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বিগ্রহ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে পুজো হয়ে আসছে। মন্দিরে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে লাঠি খেলার আসর বসাতেন ক্ষুদিরাম। দিগম্বর নন্দের আহ্বানে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু প্রায় দেড় বছর মুগবেড়িয়ায় ছিলেন। তিনি মুগবেড়িয়া সহ আশপাশের এলাকায় বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। স্থানীয় যুবকদের নিয়ে শ্যামাসঙ্গীতও গাইতেন ক্ষুদিরাম। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এই বাড়িতে চণ্ডীপাঠ করে গিয়েছেন। এই মন্দিরে গানের আসর বসাতেন চারণকবি মুকুন্দদাস। এলাকার মানুষ তাঁর স্বদেশী গান শুনে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বহু খ্যাতনামা সাধক মন্দির দর্শন করে গিয়েছেন। 

Advertisement

উল্লেখ্য, পাথরের মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এই স্থানে জঙ্গলের মধ্যে খড়ের চালার মাটির মন্দিরে মা মৃন্ময়ী রূপে পুজিতা হতেন। ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে পাকা মন্দির নির্মাণ করেন গঙ্গাধর নন্দ। জমিদার কাশীধাম থেকে কষ্ঠিপাথরের ধ্যানমগ্ন কালীপ্রতিমা এনে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে নবদ্বীপ থেকে গৌরাঙ্গ মূর্তি এনে কালীমূর্তির পাশে প্রতিষ্ঠা করা হয়। গঙ্গাধর নন্দের পুত্র প্রয়াত জ্যোতির্ময় নন্দ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে পুজো করার জন্য স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। 
গঙ্গাধর নন্দের প্রপৌত্র সেবাইত চৈতন্যময় নন্দ বলেন, মা সম্পূর্ণ নিরামিষাশী। ঠাকুরদা বিরজাচরণ নন্দ ঘোরতর শাক্ত ছিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল, মন্দিরে নিত্য আমিষ ভোগ এবং অমাবস্যায় পাঁঠাবলি হবে। কিন্তু মন্দির প্রতিষ্ঠার আগের মা তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন, মন্দিরে আমিষ ঢুকবে না এবং বলিদান হবে না। মা নিরামিষ আহার করবেন। সেই স্বপ্নাদেশ মেনে আজও মাকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়। উৎসবের কয়েকদিন শ্যামাসঙ্গীত ও কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ