সংবাদদাতা, বহরমপুর: এতদিন ধুলো ঝড়ে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এবার শহরের রাস্তার কাদায় জনজীবন ব্যাহত হতে বসেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একাধিকবার বহু মানুষ পিচ্ছিল কাদায় বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন। শহরের বুকে কাদায় রাস্তা চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বহরমপুর পুরসভার গোরাবাজার এলাকার মানুষ কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছেন। শহরবাসী এই দুর্ভোগের দায় পুর কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়েছেন। পরিস্রুত পানীয় জলের পাইপ লাইন বসানোয় বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ ঘাট থেকে রামকৃষ্ণ স্ট্যাচু পর্যন্ত রাস্তা কার্যত কাদায় বেহাল হয়ে পড়েছে। পুর নাগরিকদের অভিযোগ, পাইপ লাইন বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলেও পুর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মাটি সমান না করার কারণেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এরপর বৃষ্টি বাড়লে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। বহরমপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপ লাইনের ফাইনাল লিকেজ পরীক্ষা করার পরই সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। মাটি সমান করে দেওয়া হবে।
গ্রীষ্মে পানীয় জলের অভাব মেটাতে আগাম ঝাঁপিয়ে পড়েছে বহরমপুর পুর কর্তৃপক্ষ। জলের ফ্লো বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের নতুন কানেকশন দিতে কলেজ ঘাট থেকে পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। গোরাবাজার এবং কাশিমবাজার এলাকায় বসছে নতুন পাইপ লাইন। যার জন্য প্রথম ফেজে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কলেজ ঘাট থেকে মোহনের মোড় হয়ে শহিদ সূর্য সেন রোডের রামকৃষ্ণ স্ট্যাচু পর্যন্ত মাটি কেটে মাটির তলায় পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। যার ফলে রাস্তার একপাশে ডাঁই হয়ে মাটি জমে রয়েছে। একপাশে মাটি পড়ে থাকায় যাতায়াতের ব্যস্ততম রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। মোহনের মোড় এলাকা প্রায়ই যানজটে থমকে পড়ছে। এতদিন ধুলোয় ওই এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে জল ঢেলে ধুলো ঝড় আটকে রেখেছিল পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হতেই নয়া সমস্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির জেরে জমে থাকা মাটি গলে গলে রাস্তায় পড়ছে। কাদায় পিচ্ছিল রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিমল মজুমদার বলেন, যাতায়াতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। পুর কর্তৃপক্ষের সমস্যা নিয়ে আগেই ভাবা উচিত ছিল। জজ কোর্ট এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, জনস্বার্থেই পানীয় জলের পরিষেবা মানছি। কিন্তু স্বাভাবিক জনজীবনের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। -নিজস্ব চিত্র