নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: অবশেষে দীর্ঘ আট বছর পর আজ, রবিবার সিউড়ির হাটজনবাজারের রেল উড়ালপুলের উদ্বোধন হতে চলেছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের হাত ধরে এই রেলসেতুর উদ্বোধন হওয়ার কথা। যদিও তিনি সশরীরে হাজির থাকতে পারবেন না। ভার্চুয়ালি তিনি এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। রেলসেতুর পাশেই মঞ্চ বাঁধা হয়েছে। রেল সূত্রের খবর, উদ্বোধনে রেলের তরফে সাংসদ শতাব্দী রায় এবং বিরোধী দলনেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া, রেলের পদস্থ আধিকারিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে জেলার অন্য কোনো জনপ্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এদিকে, সেতু উদ্বোধনে হেভিওয়েট দুই জনপ্রতিনিধির সম্মুখ সমরে হওয়া নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক বিপ্লব বাউরি বলেন, সিউড়ির হাটজনবাজারে বহু প্রতীক্ষিত রেল ওভারব্রিজের উদ্বোধন হতে চলেছে। রেল সূত্রের খবর, উড়ালপুলের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের কুমারপুর রেল উড়ালপুল এবং আসানসোল-বোকারো শাখায় নতুন একটি ট্রেনের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে রেলমন্ত্রীর। উল্লেখ্য, অণ্ডাল-সাঁইথিয়া শাখায় থাকা সিউড়ি স্টেশনটি ব্রিটিশ আমলের। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গা থেকে এসে আসানসোল হয়ে সিউড়ি স্টেশন ছুঁয়ে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ট্রেন যায়। বর্তমানে ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। মালগাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে। তাতেই দুর্ভোগ বাড়ছিল। দুর্ভোগের কারণ, সিউড়ি স্টেশন লাগোয়া সিউড়ি-বোলপুর রাস্তার হাটজনবাজার লেভেল ক্রসিং। দিনে অন্তত ৫০ বারের বেশি রেলগেট বন্ধ হয়। তার জেরে শহরবাসী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে বোলপুর, লাভপুর, কীর্ণাহার বা কাটোয়া থেকে আসা মানুষকে ভুগতে হয়। একবার রেলগেট বন্ধ হলে শতাধিক বাস, ট্রাক, বাইক দাঁড়িয়ে থাকে। আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্স। সাধারণ মানুষের দাবি মেনে ২০১৮ সালে হাটজনবাজার এলাকায় রেল উড়ালপুল তৈরির কাজ শুরু হয়। রেলের জায়গা দখল করে থাকা বস্তি এবং স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান মালিকদের উচ্ছেদ করা হয়। তারপর থেকে প্রায় সাত বছর কেটে গিয়েছে। একাধিক ঠিকাদার সংস্থা বদল হয়েছে। নানা টালবাহানা কাটিয়ে অবশেষে রেল উড়ালপুলের উদ্বোধন হতে চলেছে। মাসখানেক আগেই সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তারপর রং শেষ করে পথবাতি লাগানোর কাজ চলছিল। তবে, সেতুর উদ্বোধনে অহেতুক দেরি করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল তৃণমূল।



