নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভাতারে মেসো মাসিকে খুনের পর বাড়ি ফিরে এসে নিজে চিকেন রান্না করে মহুয়া। মাঝে একদিন ফুরফুরে মেজাজে ঘুরতে বেরিয়েছিল। নিজের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছেও যায়। তিনদিন ধরে বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। মাসি, মেসোকে নৃশংস ভাবে খুনের পরেও তার কোনও হেলদোল ছিল না। এমনকী তার দুই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছেলেও স্বাভাবিক ছিল। মহুয়ার স্বামী পুলিসকে জানিয়েছে, স্ত্রী ও দুই ছেলে নৃশংস কাণ্ড ঘটালেও তিনি টের পাননি। বাড়িতে অন্যান্য সময়ের মতো তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিল। মঙ্গলবার রাতে ঘরে পুলিস এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ও তারা ভেঙে পড়েনি। প্রথমে তারা অপরাধের কথা স্বীকার করতে চায়নি। পরে পুলিস সিসি ক্যামেরার ফুটেজের কথা বলতেই সে চমকে ওঠে। তারপরেই সে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। তার স্বামী পুলিসকে আরও জানিয়েছে, মহুয়া তার কাছেও হামেশাই টাকা নিত। সোনার গয়না কেনা তার শখ ছিল। নেশায় আসক্ত ছিল। তার উৎশৃঙ্খল জীবনযাপন কাল হয়ে ওঠে। মাঝে সে ভাতারের নজ্জায় একটি হোটেল লিজ নেয়। সেটাও সে বেশিদিন চালাতে পারেনি। কারও কোনও কথা সে শুনত না। তার জন্য দুই ছেলেও বিগড়ে যায়।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার সে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই ভাতারে মেসোর বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে পৌঁছে সে খুনের পরিকল্পনার কথা দুই ছেলেকে বলে। তারপরেই পরিকল্পনামতো সে এবং তার দুই ছেলে মিলে ভাতারের রবীন্দ্রপল্লির বৃদ্ধ ওই দম্পতিকে খুন করে। অপারেশন শেষ করে শনিবার বিকেলেই তারা বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসে। মঙ্গলবার বিকেলের খুনের বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিস বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ওই দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার করে। শনিবার খুন করে আসার পর সোমবার মহুয়া ফের ভাতারে যায়। তবে সেদিন সে মেসোর বাড়িতে যায়নি। আশেপাশের এলাকা ঘুরে সে ফিরে আসে।
এক পুলিস অধিকারিক বলেন, সেদিন সে ভাতারে গিয়ে ‘হাওয়া’ বুঝতে চেয়েছিল। কে কী আলোচনা করছে সেটা সে জানার চেষ্টা করে। সে জেরায় জানিয়েছে, মেসোর বাড়িতে অন্যান্য আত্মীয়রাও যেত। সেই কারণে সে খুনের পর বাইরের থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেয়। তার ধারণা ছিল মৃতদেহে পচন ধরে গেলে পুলিস খুনির কাছে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তার কোনও কৌশলই কাজে লাগেনি। মহুয়া এবং তার দুই ছেলেকে শ্রীঘরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এক পুলিস অধিকারিক বলেন, সেদিন সে ভাতারে গিয়ে ‘হাওয়া’ বুঝতে চেয়েছিল। কে কী আলোচনা করছে সেটা সে জানার চেষ্টা করে। সে জেরায় জানিয়েছে, মেসোর বাড়িতে অন্যান্য আত্মীয়রাও যেত। সেই কারণে সে খুনের পর বাইরের থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেয়। তার ধারণা ছিল মৃতদেহে পচন ধরে গেলে পুলিস খুনির কাছে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তার কোনও কৌশলই কাজে লাগেনি। মহুয়া এবং তার দুই ছেলেকে শ্রীঘরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।



