নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ছাত্র বাড়ন্ত, তাই বাঁকুড়া জেলার সাতটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র (এমএসকে) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে বিডিওদের এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত জেলার সাত ব্লক প্রশাসনের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাঁকুড়া-১, ওন্দা, পাত্রসায়র, ইন্দাস, কোতুলপুর, জয়পুর ও তালডাংরা ব্লকে ওই সাতটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। শীঘ্রই পাকাপাকিভাবে সেগুলির ঝাঁপ নামতে চলেছে। ওই সাত জায়গার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আশপাশের কেন্দ্রে বদলি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) বলেন, ছাত্র কমে গেলে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ওই সাতটি কেন্দ্রে গড়ে ১৫-২০ জন করে ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ফলে আমরা সেগুলি আর চালু রাখতে চাইছি না। সেকারণে বিডিওদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মাধ্যমিক বা শিশুশিক্ষা কেন্দ্র চালাতে গেলে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত সঠিকভাবে বজায় থাকতে হয়। সাতটি কেন্দ্রে ছাত্রসংখ্যা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। অথচ সেখানে ‘সারপ্লাস’ শিক্ষক রয়েছেন। ফলে ওইসব কেন্দ্র বন্ধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না। তবে সেখানে থাকা গুটিকয়েক ছাত্র যাতে ড্রপআউট না হয়ে যায় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি। কীভাবে তাদের পঠনপাঠন চালু রাখা যায় তাও নজর রাখা হচ্ছে। এব্যাপারে ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় বর্তমানে ৩৬৮টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও ৬৭টি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু রয়েছে। শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে মোট ৮৩৬৪ ও মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে মোট ৪০৭৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এসএসকে-তে ৪২৮ ও এমএসকে-তে ১৯৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে প্রাক্ প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। তারপর যে ছাত্রছাত্রীরা নিকটবর্তী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বাঁকুড়া-১ ব্লকের কুমিদ্যা রাধামাধব, ইন্দাসের কড়িসুন্দা, জয়পুরের বিদ্যাসাগর কারারবনি, কোতুলপুরের ছানুয়া, তালডাংরার ফুলমতি, পাত্রসায়রের ধগড়িয়া ও ওন্দার প্রমোদ দাসগুপ্ত স্মৃতি এমএসকে বন্ধ হতে চলেছে।
এদিকে, জেলার এতগুলি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র এক সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এমএসকেগুলিতে ছাত্রসংখ্যা কেন দিন দিন কমছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে শিক্ষামহলের অভিমত। এব্যাপারে জেলা শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলির হালও খুব একটা ভালো নয়। সেখানেও ছাত্র সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির শোচনীয় অবস্থা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বেসরকারি স্কুলগুলির দিকেই অভিভাবকরা দিন দিন বেশি ঝুঁকছেন।