Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে সীমান্তে ফের জাল নোটের রমরমা

মুর্শিদাবাদে সীমান্তে ফের জাল নোটের রমরমা
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ফের সামনে এল জালনোট কারবারের সক্রিয়তা। আর তাতেই স্পষ্ট জেলার সীমান্ত এলাকায় জালনোটের কারবার একটুও কমেনি। উল্টে বাড়ছেই। মঙ্গলবার লালগোলার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে বেশকিছু সন্দেহজনক নোট জমা পড়ে। পরীক্ষার পর আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেগুলি জালনোট। সঙ্গে সঙ্গেই থানায় অভিযোগ  দায়ের করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে লালগোলার কৃষ্ণপুর এলাকার একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা হয়। সেসময় যে নোট দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে নয়টি পাঁচশো টাকার নোট জাল ছিল। 
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বড় হাট কিংবা বাজারগুলিতে মাঝেমধ্যেই জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। যেসব বাজারে এককালীন মোটা টাকার লেনদেন হয়, সেই সব বাজারই মূল টার্গেট থাকে তাদের। তবে, জালনোট এসব বাজারে ব্যবসায়ীদের হাতে ঘুরলেও সেগুলি  ব্যাঙ্ক পর্যন্ত খুব একটা পৌঁছয় না। এদিন লালগোলায় ব্যাঙ্কের কাউন্টারে জালনোট জমা পড়ায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায়। ব্যাঙ্কের তরফে থানায় জানানো হয়েছে, কারা ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে জালনোট জমা করতে চেয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হোক।
সাধারণত, মালদার বৈষ্ণবনগর থেকে জালনোট ঢোকে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায়। গত কয়েক মাসে জালনোট পাচার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছর লাগাতার বেশকিছু দুষ্কৃতী নোট পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে। পুজোর পর থেকে জালনোট করবার প্রায় বন্ধই ছিল। সম্প্রতি, হরিহরপাড়া, নওদা এলাকা থেকে জঙ্গি-যোগে বেশ কয়েকজন এসটিএফের জালে ওঠে। তার ঠিক পরেই জালনোট-কাণ্ড বেশ ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের।  
জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানের তৈরি এই জালনোট লাগাতার ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের এজেন্টরা সক্রিয় এই কারবারে। সাধারণত দু’টি করিডর দিয়ে পাকিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণে নোট এদেশে ঢুকছে বলেই দাবি গোয়েন্দাদের। একটি হল, পাকিস্তানের লাহোর থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে জলপথে বাংলাদেশ ঢুকছে। অন্যটি হল পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে বাংলাদেশ। তারপর সেই নোট বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মালদহ ও মুর্শিদাবাদ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। মূলত মালদহের বৈষ্ণবনগর হয়েই অধিকাংশ নোটগুলি আসছে। এদিনের নোটগুলি মালদা থেকে আনা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। জালনোটগুলি এতটাই আসলের সঙ্গে অবিকল যে কেউ খালি চোখে বুঝতে পারছেন না। ব্যাঙ্কের মেশিনে দিলে তখনই বোঝা যাচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। 
গত বছরও বেলডাঙার একটি ব্যাঙ্ক থেকে বেশ কয়েকটি জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার হয়। সে বারও নোটগুলি যে জাল, তা বুঝতে পারছিল না ব্যাঙ্কের কর্মীরা। সেবারও জাল নোটগুলি ব্যাঙ্কে ডিপোজিটের জন্য চলে আসে। আসল ও নকল নোটের ফারাক বুঝতে না পেরে জেলার ব্যবসায়ী মহলও বেশ আতঙ্কিত।  বহরমপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘অনলাইন ব্যবসার পরে ছোট দোকানগুলির ব্যবসা মার খেয়েছে। তারমধ্যে বাজারে জাল নোটের সমস্যা বাড়ছে। নোটগুলি এমন আধুনিক কায়দায় বানানো হচ্ছে যে, আসল ও নকলের ফারাক বোঝা যাচ্ছে না।’
সম্পর্কিত সংবাদ