Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়নে উদারতা! চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বার্তা জলপাইগুড়ির এমপির

বিধানসভা ভোটের মুখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নে উদারতা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়ের।

উন্নয়নে উদারতা! চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বার্তা জলপাইগুড়ির এমপির
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বিধানসভা ভোটের মুখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নে উদারতা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়ের। উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তো বটেই, প্রয়োজনে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করতে আগ্রহী। রবিবার ‘বর্তমান’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন এমপি। এদিন তিনি বলেন, জলপাইগুড়ির উন্নয়ন নিয়ে আমার অনেক ভাবনাচিন্তা রয়েছে। কিন্তু চাইলেই সবটা করা সম্ভব নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তথা স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁর সংযোজন, শুধু জলপাইগুড়ির উন্নয়ন নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়েই ভাবি। আমি চাই, উত্তরবঙ্গকে যেন দক্ষিণবঙ্গ কিংবা কলকাতার মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকতে হয়। উত্তরবঙ্গকে আত্মনির্ভর করে তোলাই আমার টার্গেট। 

Advertisement

সাংসদের বার্তা, উন্নয়নের স্বার্থে আমি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারি। প্রয়োজনে আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। শুধু তাই নয়, জলপাইগুড়ির উন্নয়ন নিয়ে দরকারে আমি পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারি। কিন্তু প্রশ্ন হল, আমি চাইলেই তো হবে না। উল্টোদিক থেকে সাড়া মিলবে কি? এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। 
উন্নয়ন ইস্যুতে বিজেপি সাংসদের তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসার বার্তা প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, জয়ন্তবাবু তো দু’বারের সাংসদ। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এলাকার উন্নয়ন ইস্যুতে পুরসভার সঙ্গে কতবার কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন? একবারও নয়। এখন বিধানসভা ভোটের মুখে এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গোটা বাংলার পাশাপাশি জলপাইগুড়িতেও ঢালাও উন্নয়নের কাজ চলছে। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সেই উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাব। 
রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়ের প্রশ্ন, লোকসভা ভোটের আগে তো জয়ন্তবাবু অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? আজ পর্যন্ত সেগুলি বাস্তবায়িত হল না কেন? জলপাইগুড়িতে ক’টা কেন্দ্রীয় প্রকল্প এসেছে? বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও আজও বেলাকোবা, জলপাইগুড়ির গোশালা মোড় কিংবা জলপাইগুড়ি শহরের তিন নম্বর ঘুমটি এলাকায় রেলগেটে ফ্লাইওভার হল না কেন? এসব প্রশ্নের আগে উত্তর দিন সাংসদ। আসলে ভোটের আগে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিজেপি এমপি এসব বলছেন। এদিকে, রাজ্য সরকারের সহযোগিতা মিললে উত্তরবঙ্গে কালচারাল ও স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ার ব্যাপারে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ। বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রচুর জনজাতির বাস। তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রসারের পাশাপাশি সেসব নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার খুবই প্রয়োজন। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচুর খেলোয়াড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তাক লাগিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্স করছেন। এখানে রিচা ঘোষের মতো মহিলা ক্রিকেটার রয়েছেন। 
স্বপ্না বর্মনের মতো অ্যাথলিট আছেন। ফলে উত্তরবঙ্গে একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলাও ভীষণ জরুরি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার যদি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে, তাহলে কেন্দ্রের কাছে এগুলি নিয়ে দরবার করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। জলপাইগুড়িতে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (সাই) সেন্টারে অ্যাথলিটদের জন্য সিন্থেটিক ট্র্যাক তৈরি হতে চলেছে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ