ভোপাল: ত্রিজগতের পালনকর্তা বিষ্ণু। যুগে যুগে তিনি অবতার রূপে মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়ে অসুর বিনাশ করেছেন। কৃষ্ণ, রাম, নৃসিংহ, পরশুরাম পুরাণের এইসব দৈব চরিত্রেরা বেশ পরিচিত সকলের কাছে। প্রত্যেকেই আরাধ্য। এহেন অবতারকে চোর বলা যায়? চুরি যাওয়া বস্তুটি মাখন হলেও, ভগবানকে চোর বলতে আপত্তি থাকবে অনেকেরই! অথচ কৃষ্ণের সঙ্গে নিশ্চিন্তে এই ‘চোর’ উপমা জোড়া হয়। কৃষ্ণ ভক্তরাই তা প্রচার করেন। বালক কৃষ্ণ ছেলেবেলায় মাখন চুরি করতেন, এমনটা ছবিতে-গানে নানাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কি সেসব ভুল? পুরাণ যাই বলুক, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন সব ভুল। কৃষ্ণের নামে এসব বিকৃত প্রচার। শ্রীকৃষ্ণ কখনই ননীচোর বা মাখনচোর হতে পারেন না। তাঁকে এই নামে সম্বোধন একাবারেই অনুচিত। সম্প্রতি জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব দাবি করলেন, শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে বহুল প্রচারিত তথ্য আসলে ভুল।
কিন্তু কিভাবে? নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে বিশেষ যুক্তিও সাজিয়েছেন যাদব। বলেছেন, কৃষ্ণর মাখন চুরি বলতে যা বোঝানো হয় তা আসলে ভুল। বিষয়টা আসলে অত্যাচারী কংসের আগ্রাসনের প্রতিবাদ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সম্রাট কংস যাবতীয় ভালো জিনিস নিজের জন্য গচ্ছিত রাখতেন। সেই তালিকায় থাকত মাখন। গোকুলে গোয়ালাদের বাস। দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করেই তাঁদের সংসার চলে। তাঁদের ঘরেই খঁটি ঘি, মাখন, ক্ষীর সহজে মেলে। কিন্তু কংস ইচ্ছা করে সেসব কেড়ে নিতেন। গোকুলবাসীকে বঞ্চিত করে মাখন নিয়ে যেতেন কংস নিজে। এরই প্রতিবাদে কংসের ভাঁড়ারে হামলা চালিয়ে মাখনের হাঁড়ি ভেঙে আসতেন কৃষ্ণ ও তাঁর সঙ্গীরা। বালক গোপালের কড়া নির্দেশে মাখনের হাঁড়ি একটাও আস্ত রাখতেন না তাঁর সঙ্গীরা। সবটাই কংসের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লব। তাই বিষয়টাকে চুরি বলা যায় না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি যে ভুল নয়, তা প্রমাণ করতে ইতিমধ্যেই তৎপর মধ্যপ্রদেশের তথ্য-সংস্কৃতি বিভাগ। জানা যাচ্ছে, সরকারের তরফেই শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে পাল্টা কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। রাজ্যের বিরোধী দলের দাবি, হিন্দু পুরাণকে ভুল প্রমাণ করতে চাইছেন মোহন যাদব। হাত শিবিরের দাবি, বছরের পর বছর ধরে প্রচলিত এই ধারণাই চলে আসছে। এগুলো নানা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। যদিও সরকার বিরোধীদের এই আপত্তি কানে তুলতে নারাজ।