সংবাদদাতা, ঘাটাল: ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চলেছে ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়। ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) ঘাটাল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। তাঁর নির্দেশেই ‘জাল রসিদের’ বিরুদ্ধে আজ শুক্রবার ঘাটাল থানায় এফআইআর করা হচ্ছে। এফআইআরে অভিযুক্তদের তালিকায় কলেজ পড়ুয়া ছাড়াও বেশ কয়েক জন ছাত্রনেতা এবং সাইবার কাফের মালিকের নামও থাকছে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার দেব কলেজের গভর্নিং বডির মিটিং করেন। কলেজের অধ্যক্ষ মন্টুকুমার দাস বলেন, দেব ওই মিটিংয়ে সমস্ত কিছু জানার পর জাল রসিদকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি প্রয়োজনীয় নথি ও এফআইআরের বয়ান রেডি করছি। শুক্রবার এফআইআর করা হবে।
কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়ে বেশ কিছু পড়ুয়া অনলাইন টাকা লেনদেনের ‘জাল’ রসিদ জমা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। কলেজের কিছু পড়ুয়ার থেকে ওই ফেক রসিদ পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ কলেজ কর্তৃপক্ষের। জাল রসিদ জমা পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, বেশ কিছু পড়ুয়া পরবর্তী সেমেস্টারে ভর্তির জন্য অনলাইনের পূরণ করা ফর্মের সঙ্গে টাকা জমা যে রসিদ জমা দিচ্ছে সেগুলি ফেক। তাদের সূত্রে ধরেই এফআইআর করা হচ্ছে।
কলেজে ছ’মাস ছাড়া এক একটি সেমেস্টারের পরীক্ষা হয়। সেমেস্টার শেষ হলে প্রত্যেক পড়ুয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে অনলাইনে পরবর্তী সেমেস্টারে জন্য ফর্ম পূরণ করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফিজও অনলাইনে পেমেন্ট করতে হয়। পড়ুয়ারা নিজের মোবাইল, কম্পিউটার বা কাফে থেকে সেই পূরণ করা ফর্মের প্রিন্ট এবং জমা দেওয়া ফিজের প্রিন্ট কপি কলেজে জমা দেন। কলেজ সেটা ফের অনলাইনেই যাচাই করে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজ ভেরিফাই করতে গিয়ে ধরা পড়েছে অনলাইনের পূরণকরা ফর্মগুলি ঠিকঠাক থাকলেও কিছু পড়ুয়ার মানি রিসিপ্ট ফেক। যেহেতু এক একজন পড়ুয়াকে পরবর্তী সেমেস্টারে ভর্তির জন্য বিষয় অনুযায়ী দু’ থেকে চার হাজার টাকা দিতে হয়। তাই অনুমান করা হচ্ছে, কোনও একটি চক্র পড়ুয়াদের থেকে কিছু টাকা নিয়ে ওই জাল রসিদ বানিয়ে দিচ্ছে। কলেজের ষষ্ঠ সেমেস্টারের এক ছাত্রী জানান, তার চার হাজার টাকা ফিজ জমা দেওয়ার কথা ছিল। কয়েক জন দাদা তাকে প্রস্তাব দেয়, তাদের দু’ হাজার টাকা দিলেই তারা কলেজকে ম্যানেজ করে তাঁকে চার হাজার টাকারই রসিদ দেবে। এই বিশ্বাসেই পড়ুয়ারা দাদাদের টাকা দিয়েছে। এই রকম কয়েক শ’ পড়ুয়া প্রতারিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অধ্যক্ষ বলেন, যাদের কাছ থেকে জাল রসিদ পাওয়া গিয়েছে তারা কলেজকে লিখিত আকারে জানিয়েছে কে তাদের জাল রসিদ দিয়েছে। এর ফলে ওই সূত্র ধরে কলেজের এফআইআর করতে সুবিধে হবে।