নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দুর্লভপুরে ১০০ জনেরও বেশি ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৩২ জন অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। রবিবারই সেখানে নতুন করে ১৭ জন ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় রবিবার বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের বিষয়টি জানান। তিনদিন ধরে এলাকায় ডায়ারিয়ার প্রকোপ বাড়লেও স্বাস্থ্যদপ্তরের কোনও হেলদোল দেখা যায়নি বলে সাংসদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকী সরকারি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ডায়ারিয়া আক্রান্তদের ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে বলে সাংসদ অভিযোগ তুলেছেন। অরূপবাবু বলেন, এদিন আমি বিষয়টি জেলাশাসককে জানাই। তারপর স্বাস্থ্যদপ্তর নড়েচড়ে বসে। কেনও আক্রান্তদের বাজার থেকে ৩০০-৪০০ টাকার ওষুধ কিনে খেতে হল, তা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। গঙ্গাজলঘাটির বিডিও আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছি। খবর পেয়ে এদিন বাঁকুড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) শ্যামল সোরেন দুর্লভপুর গ্রামে যান। তিনি ওই গ্রামের উপদ্রুত লোহার পাড়া পরিদর্শন করেন। সেখানে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সিএমওএইচ বলেন, এলাকার একটি নলকূপের জল বাসিন্দারা পান করতেন। পাশাপাশি পাড়ার মধ্যে থাকা একটি পুকুরের জলও তাঁরা ব্যবহার করতেন। ওই দুই জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাসিন্দাদের মলের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা সবরকম ওষুধ সরবরাহ করছি। দূষিত পুকুরের জল শোধনের জন্য ‘পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট’ দেওয়া হয়েছে। জল পরিশোধন করে খাওয়ার জন্য জিওলিন ট্যাবলেট বিলি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা পুতুল লোহার বলেন, তিনদিন আগে আমার ছেলে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাকে গ্রামের একটি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়। এদিন মেয়ে আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেয়েকে গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। স্বাস্থ্যদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই দুর্লভপুর লোহার পাড়ার বাসিন্দারা পেটের রোগে ভুগছিলেন।



