Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কটাক্ষ সাংসদ অনন্ত মহারাজের

ফের বিস্ফোরক বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজ

বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কটাক্ষ সাংসদ অনন্ত মহারাজের
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: ফের বিস্ফোরক বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজ। শনিবার দুপুরে চকচকা বড়গিলায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে করে বিজেপিকেই কটাক্ষ করলেন সাংসদ। 

Advertisement

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, উত্তরবঙ্গে দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না দলটাকে। সংগঠনের অবস্থা খুবই খারাপ। জেলা ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব আমার সঙ্গে আলোচনা না করেই কাজ করছে। বিষয়টি অমিত শাহকে জানিয়েছি। এই ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা না হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভুগতে হবে বিজেপিকে। উত্তরবঙ্গ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলে তার পরিণামও খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন অনন্ত মহারাজ। এনিয়ে বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, তিনি কী বলেছেন জানি না। তবে তিনি সাংসদ। দলের শ্রীবৃদ্ধির জন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ নেব।  এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অনন্ত মহারাজ বলেন,  গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (জিসিপিএ) নামে একাধিক সংগঠন রয়েছে। এনিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। এরা মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলছে। এটা অন্যায়। আমাদের সংগঠন রেজিস্টার্ড। বাকিরা ভুয়ো। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি। এবিষয়ে গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন বলেন, অনন্ত রায় তো বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। বিজেপির সাংসদ হয়ে গ্রেটার সম্পর্কে কথা বলার কোনও অধিকারই নেই। আমরা গ্রেটার কোচবিহার শুরু করেছি ১৯৯৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পঞ্চানন বর্মার তিরোধান দিবস থেকে। এদিন পর্যন্ত তিনি গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের কোন পদে কবে ছিলেন? কোন দায়িত্ব পালন করেছেন? কোন আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন? তাঁর অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। আমারই গ্রেটার। 
এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ দেগেছেন  গেরুয়া শিবিরের রাজ্যসভার সাংসদ গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজ। কোচবিহারকে নিয়ে পৃথক রাজ্য গড়ার বিষয়ে টালবাহানার জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁরা দেখা করেন না বলে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। 
কয়েক মাস আগে বিশ্ববীর চিলা রায়ের ৫১৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কোচবিহার-২ ব্লকের সিদ্ধেশ্বরীতে দু’দিনের অনুষ্ঠানেও কেন্দ্রীয় সরকারের কাজে তিনি যে বেজায় ক্ষুব্ধ সেকথা বুঝিয়ে দেন। জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে অনন্ত মহারাজের সম্পর্ক খারাপ  হতে শুরু করে। কোচবিহার আসনটি বিজেপির হাতছাড়া হয়। অনন্তকে বাগে আনতে গেরুয়া নেতারা চেষ্টা চালালেও এখনও বরফ গলেনি। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ