Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্ত্র পাচারে নিত্য নতুন ‘প্রেমিক’ খুঁজত ময়না

কেতুগ্রামের ময়না মাঝির কাছে ভালোবাসার মানে ছিল লাইনে নতুন নতুন ‘ক্যারিয়ার’ আনা। ঘন ঘন প্রেমিক বদল করত সে

অস্ত্র পাচারে নিত্য নতুন ‘প্রেমিক’ খুঁজত ময়না
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের ময়না মাঝির কাছে ভালোবাসার মানে ছিল লাইনে নতুন নতুন ‘ক্যারিয়ার’ আনা। ঘন ঘন প্রেমিক বদল করত সে। তাদের সঙ্গে মুঙ্গেরে গিয়ে ওয়ান শটার, সেভেন এমএম, নাইন এমএম জাতীয় পিস্তল আনত সে। বেশ কয়েকবার সে সফল ‘অপারেশন’ চালিয়েছে। কিন্তু রবিবার আনন্দপুরের নোনাডাঙা এলাকায় তাকে ‘খাঁচাবন্দি’ করে কলকাতা এসটিএফ। তার নতুন প্রেমিক আজিজ মোল্লাও কলকাতার ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়। তাদের কাছ থেকে ১০টি পিস্তল উদ্ধার হয়। 

Advertisement

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ময়না শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন জেলায় অস্ত্র সরবরাহ করার বরাত নিত। প্রতিটি অপারেশন পিছু সে চার-পাঁচ হাজার টাকা পেত। এছাড়া মুঙ্গেরে যাতায়াত করার জন্য ট্রেন ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ দেওয়া হতো। মুর্শিদাবাদের এক অস্ত্র কারবারির হাত ধরে সে কারবারে নামে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলায় তার নামে কোনও থানায় অভিযোগ নেই। অস্ত্র পাচার করেই সে অন্ধকার জগতে নাম লেখায়। তার সঙ্গে মুঙ্গেরেরও বেশ কয়েকজন অস্ত্র কারবারির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সে কারও সঙ্গে বেশিদিন সম্পর্ক রাখত না। কাউকে দিয়ে তিন চারবার অস্ত্র পাচার করানোর পরই তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাত। আবার নতুন ‘প্রেমিক’ খুঁজে সে কারবার চালাত। 
কেতুগ্রামে ভাঙা বাড়ির দাওয়ায় বসে তার মা উড়ুনি মাঝি বলেন, ময়না কলকাতায় কিছু একটা কাজ করে বলে জানতাম। ও সেখানেই থাকত। এক মাস আগেও ও বাড়ি এসেছিল। প্রতিবেশীরা বলেন, মুর্শিদাবাদের দক্ষিণখণ্ড গ্রামে ময়নার বিয়ে হয়েছিল। তবে বেশিদিন সংসার করেনি। প্রায় ২০বছর আগে নিজের স্বামীকে ছেড়ে কেতুগ্রামে বাপেরবাড়ি চলে আসে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। 
প্রতিবেশীরা বলছেন, ময়না বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছিল। গ্রামে মাঝেমধ্যে আসত। কিন্তু সে যে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে পারে এটা আমরা কোনওদিন ভাবিনি। তাদের আর্থিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। মা মাছ ধরে সংসার চালান। বাড়িটিও ভাঙাচোরা। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। ময়না মাঝেমধ্যে কেতুগ্রামে এলেও মায়ের হাতে তেমন টাকা দিত না। তার ‘লাইফস্টাইল’ ও নজরকাড়া ছিল না। গ্রামের সাধারণ মেয়ের মতো বাড়িতে আসত। অস্ত্র পাচারের মাস্টারমাইন্ডরা তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে জালে জড়িয়েছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়না অস্ত্র পাচারের কিংপিন নয়। সেও ক্যারিয়ারের কাজ করত। নতুন সঙ্গীদের এনে সে কারবারে নামাত। অস্ত্র আনার জন্য সে কয়েক হাজার টাকা পেত। তাতে জীবন যাপনে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ময়নার সঙ্গে অনেকের সম্পর্ক ছিল। সেটা সবাই জানত। কিন্তু অস্ত্র পাচারে যুক্ত থাকতে পারে এমনটা কেউ আন্দাজ করতে পারিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ