নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চত্বর দখল করে সিনেমার শ্যুটিংয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের সিরকাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালের ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, বিনা অনুমতিতে এদিন সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসপাতাল চত্বরে সিনেমার শ্যুটিং চলে। শ্যুটিং দেখতে সাধারণ মানুষ ভিড় জমায়। হাসপাতাল চত্বরে সিনেমার শ্যুটিংয়ের বিষয়টি নজরে আসতেই কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। দ্রুত শ্যুটিং বন্ধ করে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের অজান্তে হাসপাতাল চত্বরে শ্যুটিং চলায় বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
বিএমওএইচ দীপ্তেশ সোরেন বলেন, কোনওপ্রকার অনুমতি ছাড়াই এদিন হাসপাতাল শ্যুটিং শুরু হয়েছিল। বিষয়টি আমার নজরে আসতেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওই শ্যুটিংয়ের দলকে দ্রুত হাসপাতাল চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শ্যুটিংয়ের জন্য হাসপাতালের পরিষেবায় কোনও সমস্যা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কলকাতা থেকে একটি শ্যুটিংয়ের টিম হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছয়। বেলা প্রায় ১১টা নাগাদ শ্যুটিং শুরু হয়। অভিযোগ, শ্যুটিংয়ের কাজে জরুরি বিভাগের সামনে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর চলে শ্যুটিং। তবে শুধু জরুরি বিভাগ নয়, অন্যান্য এলাকাতেও শ্যুটিং চলে। এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা অভয় মাহাত বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কীভাবে শ্যুটিং হতে পারে? এটা পুরোপুরি বেআইনি। শুনেছি, স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির সঙ্গে ওই শ্যুটিংপার্টির সদস্যরা যোগাযোগ করেছিলেন। এমনকি তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এটা কী করে সম্ভব হল?
অস্টর আলি আনসারি বলেন, সরকারি হাসপাতালে এভাবে শ্যুটিং চলতে পারে, তা আমরা ভাবতেই পারছি না। কীভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শ্যুটিং শুরু হল? নিশ্চয়ই কারও হাত আছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যদি কোনও অঘটন হতো তাহলে দায় কে নিত?
আড়ষা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বরূপ মাঝি অবশ্য এই ঘটনায় কোনও অন্যায় দেখছেন না। তিনি বলেন, ওই টিমের সদস্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এসেছিলেন। তাঁরা হাসপাতাল চত্বরে শ্যুটিং করছিলেন। তবে চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও সমস্যা হয়নি। এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির কোনও মানে হয় না। এটা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। নিজস্ব চিত্র