সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ থেকে স্বরূপগঞ্জ যাওয়ার ফেরিঘাট সংলগ্ন নদীর ধারে যত্রতত্র পড়ে নোংরা ও আবর্জনার স্তূপ। রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের ব্যাগ থেকে শুরু করে হোটেল ও বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার। এইসব আবর্জনা পেরিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার করেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, চাকরিজীবী, নিত্যযাত্রী ও বাইরে থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ। এমনকী, পাশের স্নানের ঘাটে বহু মানুষ প্রতিদিন স্নান করেন। নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটের পাশে আবর্জনার স্তূপ দেখে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেন নৌকা পারাপার করা মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, ওই আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে টেকা দায়। আবর্জনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনও সম্পূর্ণ উদাসীন।
স্থানীয় কাউন্সিলার তথা চেয়ারম্যান পরিষদ সদস্য মিহিরকান্তি পাল বলেন, কিছুদিন আগে দোল উৎসব পালিত হল। তখন শহরে আসেন লক্ষাধিক মানুষ। বাইরে থেকে আসা কিছু মানুষ যত্রতত্র জলের বোতল, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট ফেলে গিয়েছেন। ফেরিঘাটের পাশে, নদীর ধারেও কিছু নোংরা-আবর্জনা রয়ে গিয়েছে। আমরা ওগুলি দ্রুত পরিষ্কার করে দেব। এখানে কেউ আবর্জনা ফেললে, তাদের চিহ্নিত করে আমরা সতর্ক করব।
নবদ্বীপ পুরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের বড়ালঘাটে রয়েছে এই ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাট থেকে ভাগীরথী নদী পেরিয়ে স্বরূপগঞ্জে যাওয়ার নৌকা চলাচল করে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই ঘাট দিয়ে নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জের মধ্যে বেশ কয়েক হাজার মানুষ নৌকায় পারাপার করেন। নদী পেরিয়ে কেউ বাস, অটো বা টোটোয় কৃষ্ণনগরে যান। অনেকে আবার মহেশগঞ্জে নবদ্বীপ ব্লক প্রশাসনিক ভবনে যান। এছাড়া, প্রতিদিন কয়েকশো স্কুল-কলেজ পড়ুয়া যাতায়াত করে।
নবদ্বীপ রানিরচড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী উত্তরা হালদার বলেন, এখান দিয়ে যাতায়াতের সময় প্রতিদিন দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। আমরা বারবার বলছি দূষণমুক্তির কথা। অথচ সেই আমরাই আবার নোংরা করছি। স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ সাহা বলেন, গঙ্গাদূষণ হচ্ছে। এখানে তো সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে কে বা কারা নোংরা ফেলছে। স্থানীয় লোকজনই এখানে নোংরা ফেলছেন। নবদ্বীপ ফেরিঘাটে কাজ করেন নাজির শেখ। তিনি বলেন, আমরা এখানে দাঁড়িয়ে টিকিট চেক করি। পচা দুর্গন্ধে আমরা দাঁড়াতে পারি না। এখানে কর্মরত এক মাঝি প্রদীপ হালদার বলেন, রাত ১০টার পর এই ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কে বা কারা নোংরা ফেলে আমরা দেখতে পাই না। আবর্জনার স্তূপ দেখে বাইরে থেকে আসা লোকজনও এই জায়গায় নোংরা ফেলছেন। -নিজস্ব চিত্র