Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিঙিজানি গ্রামে রক্তমাখা একরত্তিকে দেখে চাঞ্চল্য পরিত্যক্ত নবজাতকের দায়িত্ব নিতে ‘মায়েদের’ ভিড় হাসপাতালে

জন্ম দিয়ে পুত্র সন্তানকে ফেলে চম্পট দিয়েছেন মা। এড়িয়ে গিয়েছেন নিজ সন্তানের দায়িত্ব।

সিঙিজানি গ্রামে রক্তমাখা একরত্তিকে দেখে চাঞ্চল্য পরিত্যক্ত নবজাতকের দায়িত্ব নিতে ‘মায়েদের’ ভিড় হাসপাতালে
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ফালাকাটা ও মাথাভাঙা: জন্ম দিয়ে পুত্র সন্তানকে ফেলে চম্পট দিয়েছেন মা। এড়িয়ে গিয়েছেন নিজ সন্তানের দায়িত্ব। সোমবার সাতসকালে এমন নিষ্ঠুর ঘটনার সাক্ষী মাথাভাঙা ২ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিঙ্গিজানি।

Advertisement

কিন্তু, বিধাতার বিচার বোধ হয় একেই বলে। একাকী একরত্তিকে আপন করে নিতে ছুটে এলেন ‘মায়েরা’। সন্তান হিসেবে আপন করে নিতে চাইলেন। কেউ হাত জোর করলেন, কেউ কেদে ভাসালেন। সন্তানের প্রকৃত মূল্য বোধ হয় তারাই বোঝেন। তবে পুলিসি হস্তক্ষেপে আপাতত ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে যত্ন আত্তিতে রয়েছে সেই একরত্তি। সোমবার সেখানেই এই সদ্যজাতকে নিজের করে নিতে ভিড় করেন গ্রামের মহিলারা।
এই ব্যাপারে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সুপার ডা: শুভাশিস শী বলেন, নবজাতক এখন সুস্থ রয়েছে। তার ওজন ২কেজি ৬০০গ্রাম। ৩৬-৪০সপ্তাহের মধ্য এই নবজাতকের জন্ম হয়েছে। নাড়ি কেটে তাকে আলাদা করা হয়েছিল। শরীরে কিছু চিহ্নি রয়েছে। আমরা ওকে অবজারভেশনে রেখেছি। 
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েত মাঠের পাশে বাড়ি সুবল বর্মনের। সকাল প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ স্থানীয় ধরনী বর্মনের সঙ্গে চা খেতে খেতে কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। খোঁজাখুঁজি শুরু করলে প্রতিবেশী সুনন্দ বর্মনের সেপ্টিক ট্যাঙ্কের ওপর একটি নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখেন। রক্তমাখা সদ্যজাতোকে গ্রামের বাসিন্দারা সেখান থেকে উদ্ধার করেন। তবে চিকিত্সা দরকার বুঝতে পেরে স্থানীয় গৃহবধূ গঙ্গা বর্মন এবং তাঁর জা টুম্পা বর্মন দ্রুত নবজাতককে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। গ্রামে দ্রুত সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দলে দলে মহিলারা হাসপাতালে পৌঁছে যান। তারা সকলেই সেই সদ্যজাতের দায়িত্ব নিতে চান। এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সে একাকী পৃথিবীর বুকে ঩পড়ে ছিল, তার দায়িত্ব নিতে ‘মায়েদের’ সমাগম হয়। যদিও প্রশাসন সাফ জানিয়ে দেয়,  আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে এই কাজ করা হবে। ঘটনার খবর পেয়ে আসেন ঘোকসাডাঙা থানার ওসি কাজল রায়। ওসি জানান, আমরা তদন্ত করছি।  কে বা কারা নবজাতককে এভাবে ফেলে রেখে গেল, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আসা গৃহবধূ গঙ্গা এবং তাঁর জা টুম্পাও ঠাঁয় সেখানে দাঁ঩঩ড়িয়েছিলেন। শিশুটির দায়িত্বভার নিতে দিনভর হাসপাতাল চত্বরে কাটালেন। একইভাবে নবজাতকে পাওয়ার আশায় দিন পূর্ব সিঙ্গিজানির ৩২ বুথের পঞ্চায়েত সদস্যা সুনীতি বর্মনও হাসপাতালে আসেন। তিনি হাসপাতাল চত্বরে দাঁ঩ড়িয়ে তিনি বলেন, যারা ওকে উদ্ধার করে এনেছে তারা নিতে চাইলে আমি এই নবজাতককে নিজের ছেলে হিসাবে নিতে চাই।  কেন না ওরা ওকে নিয়ে এসেছে। তাই ওদের অধিকারই আগে। একইভাবে গ্রামের আরএক বাসিন্দা রমণী বর্মন হাসপাতালে সারাদিন কাটিয়ে দেন। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, এই ধরনের বিষয়টি গুলি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হয়।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ