নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অমর রায়কে গুলি করে খুনের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অধরা খুনি। পুলিসও ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন কোচবিহার জেলা পুলিসের পদস্থ কর্তারা। একদিকে দুষ্কৃতী ধরা না পড়া, অন্যদিকে তদন্তের বিষয়ে নীরবতা নিয়ে পুলিসের ভূমিকায় বাড়ছে অসন্তোষ।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে হতাশ অমরের মা ডাউয়াগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কুন্তলা রায়ের মুখে এবার সিবিআই তদন্তের কথা। বলেন, তিনদিন পার হলেও পুলিস খুনিদের ধরতে পারল না। এটা পুলিসের ব্যর্থতা। আজ পর্যন্ত ভরসা রেখেছি। কিন্তু আর সেকথা বলতে পারছি না। আগেও এখানে এমন তিনটি ঘটনা ঘটেছে। পুলিস ব্যর্থ হলে সিবিআই তদন্ত একান্ত দরকার।
গত শনিবার ডোডেয়ারহাটে প্রকাশ্য দিবালোকে অমরকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। শনিবার এবং মঙ্গলবার ডোডেয়ারহাটে সাপ্তাহিক হাট বসে। এদিন অবশ্য হাটে ক্রেতাদের ভিন একদম দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের চোখেমুখেও আতঙ্কের ছাপ। যে জায়গায় অমরকে খুন করা হয়েছে, তার আশেপাশের ব্যবসায়ীরা তিনদিন পরেও সিঁটিয়ে আছেন। তা সত্ত্বেও এদিন বাজার চত্বরে পুলিস দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাটে সিসি ক্যামেরা, বিদ্যুতের সংযোগ পর্যন্ত নেই। রাতে জেনারেটর চললেই বাতি জ্বলে।
ঠিক কী কারণে টিএমসি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হল, তা নিয়ে চলছে নান চর্চা। এলাকায় প্রভাবশালী অমরের হরেকরকম ব্যবসা ছিল। ব্যবসায়িক টানাপোড়েনের কারণেই কি এই খুন, নাকি এর পিছনে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের রেষারেষি, তা নিয়ে চলছে বিভিন্ন আলোচনা। পাশাপাশি সম্পর্কের টানাপোড়েন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্থানীয় থানার এক অফিসার জানিয়েছেন।
এলাকায় মাটি, বালি, জমি, মাদক সহ একাধিক অবৈধ কারবার নিয়ে দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েন রয়েছে। তার জেরে আগেও এলাকায় তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
অমরের দাদা রাজীব রায় বলেন, ভাই খুন হওয়ার পর থেকে আমরা কেউ বাড়ি থেকে বের হইনি। বাবা-মা এদিন অভিযোগ জানাতে এসপি অফিসে যান। ভাইয়ের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ছিল। ওর জন্য কেউ জায়গা পাচ্ছিল না বলেও এমন ঘটনা ঘটানো হতে পারে। পুলিসের উপর এখনও আস্থা রাখছি। দেখা যাক, খুনি ধরা পড়ে কতদিনে।
কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় বলেন, পুলিস তৎপর হলে ভালো হয়। দ্রুত খুনিকে গ্রেপ্তার করতেই হবে।
যে ফল ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে গুলি চালানো হয়েছিল, তার মালিক বাবাই দাস বলেন, দোকানে ওই সময় ক্রেতা ছিলেন। হঠাৎই বিকট একটা শব্দ শুনি। মনে হয়েছিল টোটোর টায়ার ব্লাস্ট করছে। তারপরেই দেখি একজন ছুটে এস পা পিছলে পড়ে গেল। তখনই তাঁকে দু’টি গুলি করে দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাইক নিয়ে পালিয়ে গেল। আমরা আতঙ্কে আছি। এদিন হাটে লোকজন সেভাবে আসেননি।
সব্জি ব্যবসায়ী বাদল পালের কথায়, তেত্রিশ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এমন ফাঁকা হাট কখনও দেখিনি।