সংবাদদাতা, তেহট্ট: দুশো টাকা চুরির অপবাদ দেওয়ায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিল এগারো বছরের বালক বিট্টু হালদার। বাড়ি তেহট্ট থানার তেহট্ট দত্তপাড়ায়। ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিন। বুধবার মৃতের মা সুজাতা হালদার থানায় দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম সাধন হালদার। ধৃতকে তেহট্ট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর চোদ্দ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমীর দিন সকালে পাড়ার একটি দোকান থেকে দুশো টাকা চুরি যায়। সেই টাকা বিট্টু নিয়েছে বলে অভিযোগ করে ওই দোকানদার। এই কথা ওই দোকানদার বিট্টুর বাবা-মাকে ও তার দাদাকে বলে। বিট্টুর সাইকেলও আটকে রাখে দোকানদার। বিট্টুর মা বলেন ওই টাকা আমি ফেরত দিয়ে দেব। বিট্টু তখন বলে, টাকা আমি চুরি করিনি, তাহলে কেন তুমি ফেরত দেবে। তুমি টাকা ফেরত দিলে আমি চুরি না করলেও চোর হয়ে যাব। এরপর সন্ধ্যাবেলায় সকলের সঙ্গে চা খেয়ে উপরে চলে যায়। সেখানে বাঁশ দিয়ে একটি ঘর আছে। সেই ঘরে গিয়ে বাঁশের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে। অনেকক্ষণ তার খোঁজ না পেয়ে গিয়ে দেখে যে সে ঝুলছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নামিয়ে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সেই সময় মৃতের পরিবার কোনও অভিযোগ করেননি। প্রায় এক সপ্তাহ পর মৃতের পরিবার থানায় অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
মৃত বালকের মা সুজাতা হালদার বলেন, ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। লেখাপড়ার পাশাপাশি নাটক ও আবৃতি করত। পাড়ার দোকানদার বলে দাদু বলে ডাকত। মাঝে মাঝে ওই দোকানের মাল এনে দিত। সেদিন সকালে ওই দোকান থেকে দুশো টাকা চুরির অভিযোগ করে আমার ছেলের নামে। আমি আর আমার বড় ছেলে টাকাটা ফেরত দেওয়ার কথা বললে বিট্টু বলে, আমি চুরি করিনি। তোমরা টাকা ফেরত দিলে আমি চোর হয়ে যাব। সাইকেলও আটকে রাখে। এরপর সন্ধ্যার সময় এই ঘটনা ঘটে। আমরা এক সপ্তাহ পর অভিযোগ করার কারণ ছেলের পারলৌকিক কাজ। আমরা চাই যাদের জন্য আমার ছেলে মারা গিয়েছে তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।