Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মা কালী বোন-দিদি! ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় ফোঁটা দেওয়ার পরই দেবীকে বিদায় জানানো হয়

দেবতার আরাধনায় অনেকেই আত্মবৎ সেবা করেন। দেবতাকে নিজের পরিবারের সদস্য ভাবেন তাঁরা। স্বয়ং মা কালী কারও দিদি আবার কারও বোন!

মা কালী বোন-দিদি! ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় ফোঁটা দেওয়ার পরই দেবীকে বিদায় জানানো হয়
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: দেবতার আরাধনায় অনেকেই আত্মবৎ সেবা করেন। দেবতাকে নিজের পরিবারের সদস্য ভাবেন তাঁরা। স্বয়ং মা কালী কারও দিদি আবার কারও বোন! এমন আবেগ ও বিশ্বাস থেকে কাটোয়া, আউশগ্রাম, ভাতারে বহু কালীকেই ভাইফোঁটা দেওয়ার রীতি রয়েছে। নিজের বোন বা দিদি ভেবে ফোঁটা নেওয়ার পরই মাকে বিদায় জানানো হয়।

Advertisement

আউশগ্রামের তকিপুরের বড়কালী মায়ের বিসর্জনই মূল আকর্ষণ। নিয়ম মেনে মা কালীকে ফোঁটা দেওয়া হয়। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার একদিন পর বিসর্জন হয়। শনিবার কাতারে কাতারে মানুষ বিসর্জন দেখতে আসবেন। দাঁইহাট শহরে মা সিদ্ধেশ্বরীকে নিজের দিদি বা বোন ভেবে ভাইফোঁটা দেওয়া হয়। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য তথা সেবাইত কল্যাণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় সাড়ে তিশনো বছর আগে রামানন্দ নামে এক সাধক এই দক্ষিণাকালীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কার্তিকী অমাবস্যায় সিদ্ধেশ্বরী মাতার পুজো হয়। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় ফোঁটা দেওয়ার পরই মায়ের বিসর্জন হয়। সবার আগে মাকে ফোঁটা না দিলে ভাইফোঁটাই হয় না।
কাটোয়া শহরের মাধাইতলা এলাকার ভট্টাচার্য বাড়ির বালকেশ্বরী কালীর পুজো হয়। ১২ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি করা হয়। ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্য সঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমরা বাংলাদেশের যশোর জেলায় থাকতাম। পরে কাটোয়া আসার পর ছেলে অভীক ভট্টাচার্য ছোট থেকে নিজেই কালী প্রতিমা গড়ে পুজো করত। তাই এর নাম বালকেশ্বরী কালী। পুজোয় কোনও বলিদান হয় না। তবে আমাদেরও রীতি মেনে মা অর্থাৎ আমাদের বোন বা দিদিকে ভাইফোঁটা দেওয়া হয়। কাটোয়ার পাকুড়তলার মাকেও ভাইফোঁটা দেওয়া হয়। এমনকী ভাতারের বড়বেলুনের বড়মাকেও ভাইফোঁটা দেওয়া হয়। তারপরই মায়ের বিসর্জন পর্ব শুরু হয়।
ভাইফোঁটা সাধারণত দিদি বা বোনেরা ভাই বা দাদাদের ফোঁটা দেন। কিন্তু পারিবারিক বনেদি কুলদেবতা হিসেবে পূজিত মা কালীকেও ভাইফোঁটা দেওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। কাটোয়ার গবেষক স্বপন ঠাকুর বলেন, আত্মবৎ সেবার মধ্যে এমন রীতি পড়ে। আত্মবৎ সেবা মানে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। এটা মূলত বৈষ্ণব ধর্মে রয়েছে। এখন সেটা শাক্ততেও রূপান্তরিত হয়েছে। কুলদেবীকে অনেকেই নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই তাঁকে ফোঁটা দেওয়ার রীতি রয়েছে। কোথাও পরিবারের সদস্যরা কোথাও আবার পুরোহিত দেবীকে ফোঁটা দেন। তারপর বিসর্জন দেওয়া হয়। এটা আন্তরিকভাবে আরাধনার অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। বহু আগে থেকেই এই রীতির প্রচলন রয়েছে। অনেকে নিজের কুলদেবতাকে নিজের ভাই, বোন বা দিদি মনে করে রাখি পরান। এটা শাক্ত ও বৈষ্ণবের মিলনের ফলে ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন। পারিবারিক বা বনেদি পুজোগুলোতে এরকম রীতি বেশি দেখা যায়। মা সিদ্ধেশ্বরী বা তকিপুরের কালীপুজোয় বনেদিয়ানার ছাপ রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ