নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বিদ্যাপীঠের সামনে ফুটপাতের একধারে ত্রিপল পাতা। বসে রয়েছেন বাবা। সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে। পাশে একটি ব্যাগ, দু’টো চশমার বাক্স। দু’জোড়া জুতো। বাবার কাছ থেকে অঙ্ক বুঝে নিচ্ছে মেয়ে। ফুটপাতের পাশে পাঁচিল। তার ওপারে আছেন মা। সেখানে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। অধিকাংশ জায়গায় স্ত্রী-স্বামী, মেয়ে-ছেলে বা বোন-দাদা পরীক্ষা দিয়েছে। আর কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় আত্মীয়রা।
যাদবপুর বিদ্যাপীঠে পরীক্ষা দেওয়া প্রার্থী ২০১৬ সালের এসএসসি’তে সফল হননি। আবার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষায় বসেছেন। বাইরে বসে থাকা স্বামীর স্বপ্ন মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করবেন। আগামী কাল মেয়ের স্কুলে পরীক্ষা। তাই সময় নষ্ট নয়, রাস্তাতেই চলছে অঙ্কের ক্লাস। বাবা শান্তিনাথ নন্দী বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। বললেন, ‘ওর মা তো ২০১৬ তেও পরীক্ষা দিয়েছিল। সেবার হল না। এবারও দিচ্ছে। এখন দেখা যাক।’ মহেশতলার একলব্য অ্যাকাডেমির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সমদিতা নন্দী তখন মন দিয়ে অঙ্ক কষছে। ওর মা মহুয়া পাল নন্দী মন দিয়ে ভিতরে পরীক্ষা দিচ্ছেন। শান্তিনাথবাবু বলেন, ‘ভবিষ্যতে কী হবে দেখা যাক। আপাতত মেয়েটাকে পড়াই। সামনেই তো পরীক্ষা।’ এদিকে যখন পড়ানো চলছে, ঠিক পাশেই সন্তানকে কোলে নিয়ে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত হেঁটে বেরাচ্ছেন সুখেন্দু দত্ত। গড়িয়ার বেসরকারি সংস্থার ওই কর্মী বললেন, ‘স্ত্রী এখন একটি বেসরকারি সংস্থাতে চাকরি করেন। সরকারি চাকরি আর কোথায়! এবার পরীক্ষা দিয়ে দেখা যাক যদি কিছু হয়।’ শান্তিনাথ, সুখেন্দুর মতোই ফুটপাতজুড়ে অসংখ্য বাবা এদিন সন্তান সামলালেন। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে তখন মায়েরা পরীক্ষা দিলেন।’
পরীক্ষা শেষে দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কের সাউথ সিটি কলেজের বাইরেও একই দৃশ্য। স্ত্রী পরীক্ষা দিয়ে বেরনোর পর জল, খাবার এগিয়ে দিলেন স্বামীরা। ‘পরীক্ষা ভালো হয়েছে’, এটুকু শুনেই স্বস্তির শ্বাস পরিজনদের। অন্যদিকে, চুঁচুড়া ডিআই অফিস সংলগ্ন এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পরীক্ষা শেষের অপেক্ষায় বসেছিলেন বাবারা। এক্ষেত্রেও মায়েরা তখন পরীক্ষা দিচ্ছেন। খোলা আকাশের নীচে গরমের মধ্যে বাচ্চাদের দেখে ডিআই সত্যজিত্ মণ্ডল অভিভাবকদের জন্য নিজের অফিস খুলে দেন। ৬ শিশু ডিআই অফিসে পাখা-এসির নীচে অপেক্ষা করেছে। ডিআইয়ের এই উদ্যোগে খুব খুশি তাদের অভিভাবকরা।