নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাথার চুল কেটে দিয়ে পরকীয়ার ‘শাস্তি’! নিজের পুত্রবধূ ও তার প্রেমিককে হাতেনাতে ধরে মাথা ন্যাড়া করলেন শাশুড়ি। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভগবানগোলা থানা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিস। ওই যুবক-যুবতীকে থানায় তুলে নিয়ে গেলেও কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি পরিবার।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ভগবানগোলা থানার ১ নম্বর সুন্দরপুর অঞ্চলের খেজুরবোনা এলাকায় একটি বাড়িতে যুবক ও যুবতীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা। হাজির হয় দুই পরিবারের সদস্যরা। এরপর গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে রাতেই ওই দু’জনকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত যুবতীর শাশুড়ি নিজেই চুল কাটতে শুরু করেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় কুড়ি বছর আগে মনোজা বিবির বিয়ে হয় ইসমাইল শেখের সঙ্গে। ইসমাইল বর্তমানে কেরলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। মনোজা এলাকারই এক ব্যক্তিকে ‘বাবা’ সম্বোধন করতেন এবং সেখান থেকেই পরিচয় হয় ওই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরে তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রায় দুই বছর পর মনোজা বিবি স্বামীকে ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান।
এক বছর পর ফের তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হলে মনোজা তার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসেন। এরপর ফের ওই যুবক মনোজাকে ফোনে হুমকি দিতে থাকে। তার মোবাইলে মনোজার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। এক ঘণ্টা রাত কাটাতে না এলে, তা ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে ব্ল্যাকমেল শুরু করে ওই যুবক। ভয়ে গৃহবধূ রবিবার রাতে ওই যুবককে নিজের বাড়িতে ডেকে দেখা করে। যুবক পুত্রবধূর ঘরে ঢুকতেই শাশুড়ি তাজমিরা বিবি হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাদের। এরপর প্রতিবেশীদের ডেকে এনে রাগের মাথায় শাশুড়ি ওই গৃহবধূ এবং যুবকের চুল কেটে দেয়। ওই বাড়িতে তাদের আটক রেখে রীতিমতো অত্যাচার চালায় গ্রামবাসীরা। ঘটনার খবর পেয়ে ভগবানগোলা থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবক-যুবতীকে থানায় নিয়ে যায়। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ফলে পুলিস পরে ওই দু’জনকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামাজিক ভাবে কাউকে অপমান ও এভাবে নেড়া করে ‘শাস্তি’ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক স্তরে।
তাজমিরা বিবি বলেন, আমার বউমা পরপুরুষ নিয়ে ঘরে শুয়ে আছে। আমি ঘরে ঢুকে ওদের ধরেছি। এলাকার লোকজন জমা হয়ে যায়। সবাই বলে ওদের ধরে চুল কেটে দিতে হবে। আমি তাই দুজনকে ধরেই চুল কেটেছি। ওই ছেলেটা আমার বউমার অশ্লীল ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। যদি ওকে বাড়িতে না ডাকে, তাহলে বউমাকে হাসুয়া দিয়ে কোপানো হবে বলে ওই যুবক ভয় দেখায়। তাই বাধ্য হয়ে আমার বউমা ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিল। ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার বলেন, অত্যন্ত নক্কারজনক এই ঘটনা ঘটেছে। যে বা যারা দোষ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া উচিত।