Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমার ছেলে মরেনি, মরতে পারে না’ , কাটোয়ায় টানা দু’দিন ছেলের দেহ আগলে মা

কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া এবার দেখা গেল কাটোয়া শহরে। ঘুটকিয়াপাড়ার ভাড়াবাড়িতে মৃত্যু হয় ছেলের। কিন্তু তা মানতে চাইছিলেন না মা।

‘আমার ছেলে মরেনি, মরতে পারে না’ , কাটোয়ায় টানা দু’দিন ছেলের দেহ আগলে মা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া এবার দেখা গেল কাটোয়া শহরে। ঘুটকিয়াপাড়ার ভাড়াবাড়িতে মৃত্যু হয় ছেলের। কিন্তু তা মানতে চাইছিলেন না মা। মৃত ছেলের সঙ্গেই দু’দিন কাটান তিনি। তাঁর সঙ্গেই রাতে ঘুমালেন। ঘরে ছেলের মৃতদেহ পড়ে থাকা সত্ত্বেও মা স্বাভাবিকভাবে সংসারের কাজ সারলেন। মা বারবার দাবি করেন, ‘ছেলে অসুস্থ। বেহুঁশ হয়ে পড়ে রয়েছে। ও মরেনি।’ দুর্গন্ধ ছড়ানোয় সন্দেহবশত বুধবার দুপুরে পুলিসকে খবর দেন ওই বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা। পরে তাঁরা ছেলের দেহ আগলে মা-কে বসে থাকতে দেখেন। মৃতের নাম বুদ্ধদেব রায়(৪২)। তিনি পেশায় গ্যারেজ মিস্ত্রি ছিলেন। পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। 

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরের ৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মধুমালতী মণ্ডলের দোতলা বাড়ির নীচেরতলায় গত চার বছর ধরে ভাড়া থাকতেন বুদ্ধদেব ও তাঁর মা শান্তিলতাদেবী। ওই ঘরের দু’টি দরজা। এদিন দুপুর নাগাদ দুর্গন্ধ বের হওয়ায় পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা শান্তিলতাদেবীকে ছেলের কথা জানতে চান। ছেলে ঘরে ঘুমাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এরপরই ভায়ড়াটিয়াদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা কাটোয়া থানার পুলিসকে খবর দেন। পরে পুলিস গিয়ে ঘরের মেঝেতে উপুড় হয়ে বুদ্ধদেবের দেহ পড়ে থাকতে দেখে। মাছি ভনভন করছিল। মেঝেতে চাপচাপ রক্ত ছিল। ওই যুবকের শরীরে পচন ধরেছে। 
প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, দু’দিন আগে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ওই যুবকের মা পুলিসের কাছে সমানে বলে চলেন, ছেলে অসুস্থ। বেঁচে রয়েছে। বেহুঁশ হয়ে রয়েছে। গায়ে ফোসকা পড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। 
পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া সোমা প্রামানিক বলেন, বুদ্ধদেবের শরীর খারাপ ছিল। রবিবার বিকেলে শেষবার ঘর থেকে বেরতে দেখেছি। তারপর আর দেখিনি। আমাদের মনে হয়, দু’দিন আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওঁর মা কীভাবে পচা মৃতদেহের পাশে দু’দিন কাটালেন বুঝতে পারছি না। 
জানা গিয়েছে, মৃত বুদ্ধদেবের বাবা মদনমোহন রায় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চাকরি করতেন। তিনি বেশ কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর তিন ছেলে। বড় ছেলে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চাকরি করেন। তিনি পরিবার নিয়ে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকেন। আর মেজ ছেলে মাকে নিয়ে এই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বুদ্ধদেবের দাদা দীপক রায় বলেন, ভাইয়ের টায়ফয়েড হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাও করানো হচ্ছিল। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হল বুঝতে পারছি না। দু’দিন ধরে এমন অবস্থা হয়েছে অথচ মা আমাকে একবারও জানাল না! প্রতিবেশীরা বলেন, ছেলের মৃত্যু হয়তো মন থেকে মানতে পারছিলেন না মা। ওঁর চিকিৎসা করানো দরকার।  তদন্তে পুলিস।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ