সংবাদদাতা, কাটোয়া: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রকে প্রতিদিন মারধর করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ভয়ে ওই ছাত্র আর স্কুলেই যেতে চাইছে না। শুক্রবার দুপুরে ছেলেকে মারধর করার বিষয়টি জানতে স্কুলে যান ওই পড়ুয়ার মা। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রের মাকে চুলের মুঠি ধরে কিল, চড় ঘুঁষি মারেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর অঞ্চলের অর্জুনডিহি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষকের হাতে মার খাওয়া পড়ুয়ার মা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করান। এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান তৃণমূল শিক্ষা সেলের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় সাহা বলেন, এমন ঘটনা যদি ঘটে তা খুবই নিন্দনীয়। যদিও প্রধানশিক্ষকের দাবি, অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর অঞ্চলের অর্জুনডিহি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দাঁইহাট চক্রের অধীনে রয়েছে। স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৬০ জন পড়ুয়া রয়েছে। পাঁচজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষিকা রয়েছেন। এদিন কাটোয়া থানার পুলিসের কাছে অর্জুনডিহি গ্রামের সালেহার বিবি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে আহমেদ আলি শেখ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর ছেলেকে প্রতিদিন প্রধান শিক্ষক মারধর করেন। তাই ভয়ে ছেলে স্কুলে যেতে চাইছে না। এদিন দুপুরে স্কুলে ২২ শে শ্রাবণের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুর ১২টা নাগাদ ছেলেকে কেন মারধর করা হচ্ছে, তা জানতে স্কুলে যান সালেহার বিবি। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতেই ছাত্রের মাকে বেধড়ক মারধর করেন। অশ্লীল ভাষায় গালি দেন। চুলের মুঠি ধরে তাঁকে কিল, ঘুঁষি মারেন। তাতে ওই মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এরপর ওই মহিলার ভাই ভাই মোতলেব শেখ তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ছাত্রকে প্রতিদিন লাঠি দিয়ে মারধর করছেন। আবার বলতে গেলে মাকেও পেটাচ্ছেন। আমরা পুলিসে অভিযোগ জানিয়েছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন শেখ বলেন, অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। স্কুলে ওই ছাত্রের সঙ্গে সহপাঠীর মারপিট হয়েছে। তা নিয়ে আমি ওই ছাত্রকে বকাবকি করেছিলাম। ওর মা এই স্কুলেরই ছাত্রী ছিলেন। এদিন ওই ছাত্রের মা স্কুলে এসে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। সেই সময় আমি রাগে হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে তাঁকে স্কুল থেকে সরিয়ে দিই।



