Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১০টি থানার পুলিসের ঘুম কেড়ে নেওয়া ছিনতাই জগতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গ্রেপ্তার

দুই রাজ্যে দু’টি ঠিকানায় বসবাস তার। দুই জায়গায় দু’জন স্ত্রীও রয়েছেন। বাবা-মায়ের দেওয়া নাম ছাড়াও দু’টি ছদ্মনাম ব্যবহার করে। বাইক চুরি করে তাতে চেপে ছিনতাই করাই তার পেশা।

১০টি থানার পুলিসের ঘুম কেড়ে নেওয়া ছিনতাই জগতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গ্রেপ্তার
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দুই রাজ্যে দু’টি ঠিকানায় বসবাস তার। দুই জায়গায় দু’জন স্ত্রীও রয়েছেন। বাবা-মায়ের দেওয়া নাম ছাড়াও দু’টি ছদ্মনাম ব্যবহার করে। বাইক চুরি করে তাতে চেপে ছিনতাই করাই তার পেশা। ছিনতাই করার পর বিদ্যুৎ গতিতে এলাকা ছেড়ে পালানো তার কাছে কার্যত জলভাত। এমনই এক যুবক গত কয়েক বছরে কাঁথি এবং এগরা মহকুমার প্রায় ১০টি থানার পুলিসের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। বহু ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সেই যুবক দিলীপ দাস ওরফে লালা ওরফে গুণধর শেষমেশ পুলিসের জালে ধরা পড়ল। শুক্রবার অনেক রাতে খেজুরি ও ভূপতিনগর থানার সীমানা এলাকার একটি গ্রাম থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে।  ভূপতিনগর থানার পুলিস শনিবার ছিনতাই জগতের ওই ‘গুণধর’কে কাঁথি এসিজেএম আদালতে পেশ করে। বিচারক তাকে সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এরমধ্যেই এগরা, ভগবানপুর, মারিশদা, খেজুরি ও কাঁথি সহ আরও বিভিন্ন থানা পুরনো ফাইল খুলে তার নামে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে গতি আনা হবে।

Advertisement

গত ৫জুন একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের ভূপতিনগর থানার মাধাখালি শাখার কর্মী রাজকুমার দাস কিস্তির এক লক্ষ ৭১০টাকা নিয়ে বাইকে করে ব্যাঙ্কে ফিরছিলেন। সেই সময় একটি বাইকে দুই যুবক তাঁকে ধাওয়া করে। মাধাখালি এলাকায় পিচ রাস্তার উপর চিলের মতো ছোঁ মেরে তাঁর কাছ থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই করে চম্পট দেয়। ওই ব্যাঙ্ককর্মী ভূপতিনগর থানায় এফআইআর দায়ের করেন। 
পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, চোরাই বা‌ই঩কে অপারেশন চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ওই অপারেশনের মূল মাথা দিলীপ। তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানা যায়, ভূপতিনগরে রামচকের পাশাপাশি ওড়িশায় তার আরও একটি ঠিকানা আছে। দুই জায়গায় দু’জন স্ত্রী থাকেন। কাঁথি ও এগরা মহকুমার অন্তর্গত বিভিন্ন থানা এলাকায় ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত দিলীপ। অপারেশন চালানোর পরই সে ওড়িশায় পালিয়ে যেত। আবার সেখানে অপারেশন চালানোর পর ডেরা বদল করত। বাইক চুরি করার পর তাতে চড়েই ছিনতাই করত দিলীপ। গত ৬জুনের ঘটনায় পুলিস আগেই দিলীপের সঙ্গে থাকা যুবককে পাকড়াও করেছিল। শুক্রবার রাতে মূল পাণ্ডা দিলীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত সাতদিনের পুলিসি হেফাজতে থাকাকালীন দিলীপের থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা হবে। ভগবানপুর ও ভূপতিনগর, খেজুরি, মারিশদা, কাঁথি ও এগরা থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় চোরাই বা‌ই঩কে চড়ে শিকার খুঁজত দিলীপ। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থার কিস্তির টাকা জোগাড় করে ফেরার সময় কর্মীদের টার্গেট করা হতো। গত এক বছরে ভূপতিনগর ও ভগবানপুরে এভাবে ১০টির বেশি ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক জেরায় দিলীপের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করে হতবাক পুলিস। ভূপতিনগর থানার রামচকে তার বাড়ি আছে। ওড়িশায় রয়েছে আরেকটি বাসস্থান। দুই জায়গায় দু’জন স্ত্রী থাকে। তার পেশা ছিনতাই। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় দিলীপ দাস ওরফে লালা ওরফে গুণধর ধরা পড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ